সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মহানগর সময়
১৪ টা ১৭ মিঃ, ২৯ মার্চ, ২০১৯

নাঈম যেন বড় সেলেব্রিটি

যেন বড় কোনো সেলেব্রিটি। যেখানেই যাচ্ছে সেখানেই ভিড়; হুমড়ি খেয়ে পড়েছে দেশি বিদেশি সব সংবাদমাধ্যম। বলা হচ্ছে নাঈমের কথা। বয়স ১০ কি এগারো। দূরন্ত কৈশোর। কিন্তু বুকে অসীম সাহস আর সেবার প্রয়োজনে বেরিয়ে পড়ার তাগিদ। তাইতো বনানীর আগুনে যেখানে শত শত লোক ছিল নীরব দর্শক, কেউবা সেলফি তুলতে বা ভিডিও ছড়াতে ব্যস্ত সেখানেই ছোট্ট নাঈম ফায়ার সার্ভিসের নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের পাইপের ছিদ্র বন্ধসহ নানা কাজে ছিল ব্যস্ত-সমস্ত।
রাশেদ লিমন

মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল সেই ছবি। কড়াইল বস্তিতে বেড়ে ওঠা নাঈমের স্বপ্ন বড় হয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার। কারণ এতে সেবা করা যায় মানুষের।

গল্পটা একদিন আগের। বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ আগুন, উদ্ধারকর্মীরা চেষ্টা করছেন সাধ্যের বাইরে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ আর আটকে পড়াদের বের করে আনতে। অন্যদিকে উৎসুক জনতার ভিড়। ব্যস্ত অনেকেই মোবাইলে ভিডিও ধারণে। এদের মধ্যে আবার অনেকেই নিজের জীবন বিপন্ন করে বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। হঠাৎই ক্যামেরার লেন্সে ধরা দিল ছোট্ট দুটি হাত আঁকড়ে ধরে আছে পানি সরবরাহের পাইপ।

নাঈম বলল, দেখি পাইপ ফাঁডা (ফাঁটা)। তখন আমি পাইপটা চাপ দিয়ে ধরলাম। আরো অনেক মানুষ ছিল। তারা আমাকে পলিথিন এনে দিল যেন সাহায্য আরো বেশি হয়। পালিথিন পেঁচাইয়া আমি চাপ দিয়ে ধরে রাখলাম। আমি দেখলাম কি, পানি কম বাইর হচ্ছে আর ফায়ার সার্ভিস আস্তে আস্তে আগুন নিভাইতাছে।

সেই ছবিটি ভাইরাল হওয়ায় নাঈমকে নিয়ে উৎসাহের সীমা নেই। দশ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নাঈমের স্বপ্ন পুলিশ অফিসার হওয়ার।

বিষয়টি বেশ উপভোগ করেছেন খোদ পুলিশ কর্মকর্তারাও।

রাজধানীর এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, 'ওর মুখ থেকে যে সাহসী উচ্চারণ, যে মানবতার বাণী ওর মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে, আমরা দোয়া করি ওর মতো এদেশে আরো লাখ শিশু জন্ম নিক।

তাইতো নাঈম ভক্তরা ওর মাঝেই খুঁজছে বাংলাদেশ।

এক তরুণ বলেন, অতটুকু ছেলে মানবতার যে কাজ করেছে সেটা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিৎ।

আরেক জন বলেন, আমরা এসে কোথায় সাহায্য করবো, তা না করে আমরা সেলফি তুলি। আমাদের ওই শিশুর কাছ থেকে শেখা উচিৎ।

কৌতূহল নিয়েই কড়াইল যাত্রা, নাঈমের বাড়ি। বস্তির মাঝের ছোট্ট একটি ঘরে দুই ভাই-বোন আর মায়ের এক সংগ্রামী জীবন।

নাঈমের মা বলেন, আমার এক ছেলে, এক মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাসায় বাসায় কাজ করে খাই। আমি খুব গর্বিত যে, আমার ছেলে এত বড় একটা কাজ করেছে।

আর নাঈমের বোনের কথায়, আমার ভাই এত ভালো কাজ করেছে। সবাই তাকে ভালো বলছে। আমার খুবই ভালো লাগছে।

সময় টিভিতে নাঈমকে নিয়ে সংবাদ প্রচারের পর অনেকেই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ওর দায়িত্ব নেয়ার। কে জানে সঠিক দেখভাল হলে একদিন সত্যিই হয়তো নিজের স্বপ্নকেও ছাপিয়ে যাবে আমাদের নাঈম।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়