সম্পূর্ণ নিউজ সময়
আন্তর্জাতিক সময়
৮ টা ৫৩ মিঃ, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

মিয়ানমারে সাজাপ্রাপ্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তির আহ্বান জাতিসংঘের

রোহিঙ্গা গণহত্যার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মিয়ানমারে সাজাপ্রাপ্ত দুই সাংবাদিককে দ্রুত মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলেও তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই সাজা দেয়ার বিষয়টিকে মিয়ানমার সরকারের 'সাজানো ঘটনা' বলে মন্তব্য করেছেন রয়টার্স প্রেসিডেন্ট। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রকাশিত মিয়ানমারের বইয়ে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ছবি ব্যবহার করে মিথ্যাচার করায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
আতিয়ার রহমান সজল

 


সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করে তথ্য পাচারের দায়ে সাত বছরের সাজা দেন ইয়াঙ্গুনের আদালত। তাদের সাজা না দিতে বিশ্বের বিভিন্ন মহলের অনুরোধ থাকলেও, এসবের তোয়াক্কা না করে, দুই সাংবাদিককে সাজা দেয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ওইদিনই নিউ ইয়র্কে রয়টার্সের প্রেসিডেন্ট ও এডিটর ইন চিফ স্টিফেন এডলার এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তাদের কারাদণ্ডের বিষয়টিকে 'সাজানো' বলে মন্তব্য করেন।

রয়টার্সের প্রেসিডেন্ট ও এডিটর ইন চিফ স্টিফেন এডলার বলেন, ‘সাজা ঘোষণার মধ্য দিয়ে মিয়ানমার যা করলো তা পুরোপুরি অস্বচ্ছ। পুরো বিষয়টিকেই আমি সাজানো ঘটনা বলবো। মিয়ানমার সরকার চাইলেই তাদের মুক্তি দেয়া সম্ভব।’

জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও তাদের দ্রুত মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক নতুন হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের বত্যয় ঘটিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মিয়ানমারের এমন কর্মকাণ্ডে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। এ অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব তাদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এদিকে, রাখাইনের রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে গিয়েই তাদের এই করুণ পরিণতি ভোগ করেতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে জার্মানি।

জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ক্রিস্টফ বার্গার বলেন, ‘আমরা আতঙ্কিত। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো মিয়ানমারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা তলানিতে রয়েছে। জার্মানি এ রায় পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে।’

৩২ বছর বয়সী ওয়া লন এবং ২৮ বছর বয়সী কিউ সোয়ের সাজা নিয়ে কড়া সমালোচনার মধ্যে পড়েছে মিয়ানমার। এ অবস্থায় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে মিথ্যাচারের ঘটনায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছে দেশটি। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই ভুলের জন্য পাঠক এবং ওই ছবি দুটির আলোকচিত্রীদের কাছে তারা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। তবে বইটিতে রাখাইনের মুসলিম রোহিঙ্গাদের 'বাঙালি অবৈধ অভিবাসী' বলা হলেও এ অবস্থান থেকে এক চুলও সরে আসেনি মিয়ানমার। 

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়