সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মহানগর সময়
২১ টা ৩৮ মিঃ, ৭ মার্চ, ২০১৮

জেএমবি সদস্যরাও যোগ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগে, অভিযোগ দলীয় নেতাকর্মীদের

নাশকতা, গাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপসহ একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামী বিএনপি জামায়াত ও জেএমবি সদস্যদের নিয়ে রাজশাহীর বাগমারায় আওয়ামী লীগের নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম অভিযান শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতে, মামলা থেকে বাঁচতে দলে দলে সরকার দলীয় সংগঠনের যোগ দিচ্ছে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা। আর তৃণমূল ও প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করে দল থেকে বিতাড়িত করায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা সুবিধা বঞ্চিত নেতাদের। তবে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সংগঠনের দায়িত্বে থাকা নেতাকর্মীরা।
সাইফুর রহমান রকি


কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের সদস্যপদ নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী কোনো অপশক্তি আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। দলভারী করার জন্য অপকর্মকারী কাউকে দলে টানা যাবে না।

দলের শীর্ষ এই নেতার বক্তব্যে স্পষ্ট স্বাধীনতাবিরোধীরা আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে না এমন সিদ্ধান্ত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে রাজশাহীর বাগমারায় চলছে আওয়ামী লীগে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম অভিযান। অভিযোগ উঠেছে, সরকার পতনের আন্দোলনে বিএনপি জামায়াতের যেসব নেতাকর্মী নাশকতা, পুলিশের কাজে বাধাদান, বিস্ফোরক দ্রব্যসহ একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামী এখন তারাই আওয়ামী লীগ সদস্য হিসেবে দলে ঢুকে পড়ছে। এছাড়া জেএমবি সদস্যের নামও আছে এই তালিকায়। দলে অনুপ্রবেশকারী নতুনদের বক্তব্যে যার প্রমাণও মেলে। 

সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া জেএমবির সাবেক এক সদস্য বলেন, জেএমবিতে দুই-একদিন মিটিং করতে গিয়েছিলাম, অন্য কিছু না। এখন আওয়ামী লীগ করি।

তার মতো সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদান করা আরও কয়েকজন বলেন, আওয়ামী লীগে যোগদান করার পর সব মামলা খালাস হয়ে গেছে। সবাই এখন আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন।

নতুনদের ভিড়ে গ্রুপিং লবিং আর আধিপত্যের লড়াইয়ে হেরে যাওয়ায় এখন প্রকৃত আওয়ামী লীগের অনেকে নেতাকর্মী রয়েছে বহিষ্কারের তালিকায়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যা অশুভ ইঙ্গিত বলে মনে করেন সুবিধা বঞ্চিত নেতারা।

রাজশাহীর তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ বলেন, এরা কখনোই আওয়ামী লীগে ভোট দিবেন না। এ অবস্থা চলতে থাকলে আওয়ামী লীগের ভিতর এমন বিস্ফোরণ ঘটবে যাতে খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে।

বহিষ্কারের তালিকায় আছে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। অবশ্য এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলে দাবি করেছেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। 

বাগমারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, নবায়ন ও সদস্য সংগ্রহের অভিযানে যারা সহযোগিতা করছেন না তারা এখানে অংশগ্রহণই করেননি, তারা কীভাবে এসব জানতে পারছেন? এটা শুধুমাত্র বিরোধিতা করার জন্যই বলা হচ্ছে।

তবে বিএনপি জামায়াত বা জেএমবির কাছে যারা আওয়ামী লীগের সদস্য ফরম তুলে দিবেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান  রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।

তিনি বলেন, জামায়াত সমর্থিত লোককে আওয়ামী লীগে নেয়া যাবে না। কোনো বোমাবাজ কিংবা নাশকতাকারীকে দলের পদ দেয়া যাবে না। কেউ যদি দিয়ে থাকেন তবে সঙ্গে সঙ্গেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে বাগমারায় আওয়ামী লীগের সদস্যপদ সংগ্রহ করছেন প্রায় ৮০ হাজারের বেশি নেতাকর্মী।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়