fair            

একুশে গ্রন্থমেলায় ‘চাঁদের আলোয় যাযাবর গান’

-n

অমর একুশ গ্রন্থমেলা ২০২০-এ প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গোলিয়ান কবি হাদা সেন্দো নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ ‘চাঁদের আলোয় যাযাবর গান’। বাংলা অনুবাদ করেছেন অনন্ত উজ্জ্বল এবং প্রকাশিত হয়েছে স্বদেশ শৈলী থেকে।

কবি হাদা সেন্দো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কবি, সম্পাদক ও অনুবাদক। সেন্দোর কবিতা ইতোমধ্যে ৩০টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তিনি বিশ্বব্যাপী বেশকিছু পুরস্কার পেয়েছেন। পুরস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্যা পোয়েট অব মিলেনিয়াম এ্যাওয়ার্ড, দ্যা বেস্ট পোয়েট প্রাইজ, দ্যা লিটারেচার এচিভমেন্ট প্রাইজ, দ্যা পোয়েট্রি মেরিট এ্যাওয়ার্ড এবং জায়েন্টস অব ক্রিয়েটিভিটি এ্যাওয়ার্ড। ২০১৫ সালে তিনি ভিশনারি পোয়েট এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। ২০১৯ সালে মঙ্গোলিয়ান রাইটার্স ইউনিয়ন পুরস্কার পেয়েছেন।

হাদা সেন্দো ‘World Poetry Almanac’ প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। হাদা এই পত্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী সম্পাদক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুবই পরিচিত এবং অতন্ত সম্মানিত। এই সম্মান তিনি অর্জন করেছেন পত্রিকা সম্পাদনা করে। তিনি পত্রিকাটি ২০০৬ সাল থেকে সম্পাদনা করছেন। ইতোমধ্যে তিনি পৃথিবীর ১০০টি দেশের প্রায় ৩০০০ কবিকে তার পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল মানুষকে একত্রিত করে না, বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষার মধ্যে বোঝাপড়া এবং প্রচারের মূল চাবিকাঠি হিসেবেও কাজ করেন।

হাদা সেন্দো একজন আবেগী গীতিকবি। তার কবিতায় রয়েছে প্রাকৃতিক ভূ-দৃশ্য, মানুষ এবং আদি মঙ্গোলিয়ান সংস্কৃতির ঐতিহ্য। সেন্দোর লেখা ছোট ছোট কবিতাগুলো মৌলিকতার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ এবং প্রাকৃতিক শক্তি ও সৌন্দর্যে অনুরণিত। যেমন বাতাস, নদী, হ্রদ, চাঁদ, তারা, আলো-অন্ধকার এবং ঋতু পরিবর্তন। মঙ্গোলিয়ার প্রাকৃতিক চিত্রের প্রাধান্য রয়েছে হাদা সেন্দোর কবিতার মধ্যে। তার কবিতা পাঠের মধ্যে দিয়ে পাঠক মঙ্গোলিয়ার বিশাল প্রাকৃতিক ভূ-দৃশ্যের বিস্তর বর্ণনা ও স্পষ্ট ধারণা পাবে- একচ্ছত্র ক্ষমতা এবং সেই ক্ষমতার সূক্ষ্ম ক্রমবিকাশ: ভূ-দৃশ্যের রঙের পরিবর্তন, মেঘের পরে মেঘ, নানা বর্ণের মেঘ এবং অন্তহীন নীল আকাশ। শিশির আর তুষারপাত তৃণভূমি, বনভূমি, সমতল ভূমিতে সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ, বিস্তীর্ণ সবুজ তৃণভূমি স্তেপ অঞ্চলে এবং গোবি মরুভূমিতে। মঙ্গোলিয়ার এই বিচিত্র ভূ-প্রকৃতি অনেক ধরনের প্রাণী-বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ: ঘুঘরো পোকা আর কোকিল, প্রজাপতি আর মৌমাছি, ঈগল আর কাঠবিড়ালী, ভেড়া, ঘোড়া, ইয়াক ও অন্যান্য গবাদি পশু। আরো আছে ‘সাদা হরিণ আর নীল নেকড়ে’।

এই পটভূমির বাইরেও বিভিন্ন সময় হাদা সেন্দো মানুষের জীবনের আশাহত এবং মহৎ বিষয়গুলো বিবেচনা করে কবিতা লিখেছেন। এই ধরনের কবিতায় প্রচুর মিথ ব্যবহার করা হয়েছে এবং কবিতায় সেগুলোর শক্তিশালী একটি অবস্থান আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূল মিথগুলো অক্ষুণ্ন রেখে পরিষ্কারভাবে কবিতায় উপস্থাপন করা হয়েছে। হাদা সেন্দোর সরল প্রকাশভঙ্গিতে মঙ্গোলিয়ার উন্নত প্রতীকগুলোর সম্মিলিত প্রকাশ ঘটেছে। সব মিলিয়ে হাদা সেন্দোর কবিতা অনেক উন্নত, মানবিকতার উষ্ণতা মিশ্রিত এবং ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় পূর্ণ। 

হাদা সেন্দো তার সময় এবং নিজস্বতাকে ধারণ করে লিখেছেন; তবে তিনি ধারণ করেছেন এবং সমৃদ্ধ হয়েছেন পৃথিবীর বড় বড় সব লেখকের লেখা থেকে। যেমন সারগেই আলেকজন্দ্রভিচ ইয়েসচিনিন (রাশিয়ান লিরিক্যাল পোয়েট। তিনি রাশিয়ার কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য এবং বিশেষভাবে পরিচিত, অক্টোভিও পাজ মেক্সিকান কবি এবং কূটনৈতিক। তিনি ১৯৯০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন এবং সিরিয়ান কবি আদুনিস। ফলে তার লেখার মধ্যে মানবতার জন্য উন্নত স্বপ্নের বীজ রোপিত হয়েছিলো লেখালেখির শুরু থেকেই। তার লেখায় ‘উদারতা’ শব্দটির একমাত্র অর্থ উদারতা নয়, তিনি ‘উদারতা’ শব্দটিকে সাহিত্যের আলোকে ব্যবহার করেছেন ‘মহৎ আত্মা’ বলে।

হাদা সেন্দো সেই ধরনের কবি, যার মধ্যে আছে ভবিষ্যতের বিশ্বাস। বিশেষ করে তার লেখার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় জনগণের সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাপন এবং মঙ্গোলিয়ান ভূমির চমৎকার বর্ণনা। 

তিনি লিখেছেন:
তুমি যদি জানতে চাও আমি কোথা থেকে এসেছি
বলবো আমি এসেছি আকাশ থেকে
নদী আর ঘন বন থেকে
আমি এসেছি বিস্তীর্ণ তৃণভূমি থেকে।

প্রকাশিত বই
বই মেলার সংবাদ
বই মেলায় আড্ডা
book-fari-adda
b5
b4
b3
b2
b1
ভিডিও
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
fair            
somoy