fair            

বিশ্বে বাংলার সৌরভ ছড়িয়ে দিচ্ছে হারমোনি

boi-mela

প্রবাস জীবন মানেই প্রতিনিয়ত নানা ধরণের চ্যালেঞ্জ। টিকে থাকার লড়াই। তবু দিন শেষে আমি বাঙালি, বাংলাদেশি, কথাগুলো বলছিলেন কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি মুন্তাসির নাসির সৈকত। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কাটাচ্ছেন প্রবাস জীবন। থাকেন কানাডার উইন্ডসর শহরে। বই মেলার টানে ছুটে এসেছেন দেশে। 
গত সোমবার মেলার নবম দিনে মেলাতেই কথা হয় তাঁর সাথে। সংক্ষিপ্ত আড্ডায় তুলে ধরেন প্রবাস জীবন, দেশ, দেশের মানুষ, আর নিজের নানা কর্ম-পরিকল্পনার কথা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে উৎসর্গ করে এবারের বই মেলার পরিসর বাড়ায় উচ্ছ্বসিত সৈকত। জানান, গত বছর মেলায় আসতে না পারলেও এসেছিলেন ২০১৮ সালের মেলায়। মেলায় এসে নতুন-নতুন বই আর বই প্রেমিদের দেখে গর্ব হয় তাঁর। বলেন, 'বই আর ভাষা নিয়ে বিশ্বে এমন আয়োজন বিরল।'

কথায় কথায় সৈকত তুলে ধরেন নিজেদের কিছু কর্মকাণ্ড। প্রবাস জীবনে একই সাথে দুইটি পেশায় যুক্ত থাকলেও সৈকত সময় সময়ই ভাবেন নিজের দেশ ও সংস্কৃতি নিয়ে। কয়েকজন মিলে ২০১৬ সালে গড়ে তোলেন 'হারমোনি কালচারাল রিসার্চ এন্ড এক্সচেঞ্জ ফোরাম'। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের কাছে বাংলাকে পৌঁছে দিতেই কাজ করে সাংস্কৃতিক এই সংগঠনটি। 

সৈকত জানান, একুশে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে অলাভজনক সংস্থা 'হারমোনি কালচারাল রিসার্চ এন্ড এক্সচেঞ্জ ফোরাম'র পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বারের আয়োজন করা হচ্ছে বহুজাতিক মাতৃভাষা উৎসবের। 'মাল্টিন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ফেস্ট—এমএমএলএফ ২০২০' নামের অনুষ্ঠানটির পর্দা উঠবে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি উইন্ডসর শহরের কাবোটো ক্লাবে। 

এবার সিটি অব উইন্ডসরের সহযোগিতায় ৩০টিরও বেশি দেশের শিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি পরিবেশন করবেন। এর আগে গতবছর প্রথমবারের মতো 'হারমোনি' আয়োজন করে বহুজাতিক মাতৃভাষা উৎসব। এতে ২১ দেশের শিল্পীরা ২৪টি ভাষায় তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি পরিবেশন করেন। ইউনেসকো স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতেই এমন আয়োজন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন উইন্ডসর শহরের মেয়র ড্রিউ ডিল্কেন্স। বিশেষ অতিথি থাকবেন লিবারেল পার্টির সাংসদ এরেক কুসমিয়েরচেক এমপি, এনডিপি পার্টির সাংসদ ব্রায়ান মেসি এমপি, পারসি হ্যাটফিল্ড এমপিপি, পুলিশ-প্রধান পামেলা মিযুনো ও ফায়ার চিফ স্টিফেন লাফোরেট।

বর্তমানে হারমোনির পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন ড. মোন্তাজির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, মো. আবদুল কাইয়ুম, ড. ওমর ফারুক, খালেক জামান ও মুনতাসির নাসির।

সংগঠনের ছয় পরিচালকের একজন মুন্তাসির নাসির সৈকত সময় সংবাদকে বলেন, "বাংলা আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে ১৯৯৯ সালে। বাংলাদেশি ও বাংলা ভাষী মানুষ হিসেবে এ গৌরব আমাদের সকলের। তবে আমি মনে করি, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মানেই সবকিছু পাওয়া নয়, বাংলা পৌঁছে দিতে হবে বিশ্বের প্রতিটি দেশে, প্রতিটি জাতির কানে। একজন প্রবাসী হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, সফল আমরা হবোই। বাংলার গৌরব, বাংলার সৌরভ ছড়াবে বিশ্বময়।"

সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি হারমনি চ্যারিটি, নারীর অধিকার বাস্তবায়ন, নতুন অধিবাসীদের সহযোগিতা, পরিবেশ সচেতনতা ও যুব উন্নয়নে অন্যতম ভূমিকা পালন করে আসছে। কানাডায় বাংলাদেশি কোনো সংগঠনের অনেক দেশের সমন্বয়ে আয়োজিত এই উৎসব দৃষ্টান্তমূলক এক অনুষ্ঠান, যা বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের। এর আগে হারমোনি আমেরিকা ও কানাডার বিভিন্ন শহরে মঞ্চনাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। উইন্ডসর শহরের স্থানীয় শিল্পীরাই হারমোনির মূল চালিকা শক্তি।

প্রকাশিত বই
বই মেলার সংবাদ
বই মেলায় আড্ডা
book-fari-adda
b5
b4
b3
b2
b1
ভিডিও
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
fair            
somoy