fair            

মেলায় সাঈদ আজাদের ‘বিষণ্ণ জোছনায়’ মজেছে পাঠক

sayed-azad

বিষণ্ণ জোছনার বয়ান, ‘সকল পূর্ণিমা এক নয়। কোন পূর্ণিমায় মানুষ সব হারায়। কোন পূর্ণিমায় মানুষ সব পায়। চাঁদের তাতে কিছু আসে যায় না। সে নিরাসক্ত থেকে নিজেকে নিঃশেষ করতে থাকে৷ পূর্ণিমা থেকে চলে যায় অমাতে।’

সত্যিকার ভালোবাসা কী? তৌফিকের খানিক অবহেলার মাসুল কী? জোনাকি কিসের প্রতীক্ষায় থাকে? এ প্রতীক্ষার শেষ কোথায়? আদৌ কি শেষ আছে? বায়জিদের পরিণতি কী? রফিকের কী দোষ ছিলো? আচ্ছা জোনাকির দোষ কোথায়? এ সব প্রশ্নে জবাব পাওয়া যাবে বিষণ্ণ জোছনায়।

তরুণ কথাশিল্পী সাঈদ আজাদ। সমাজের অবহেলিত প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, আশা-হতাশা, স্বপ্ন-ভালোবাসা নিয়ে লিখেন তিনি। তাঁর গদ্যশৈলী ইতোমধ্যে পাঠকের মন কেড়েছে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘অগ্নিপ্রভাত’। উপন্যাসটি তরুণ কথাশিল্পীদের নিয়ে অপ্রকাশিত প্রথম উপন্যাস হিসেবে শব্দঘর-অন্যপ্রকাশের কথাশিল্পী অন্বষণে সেরা নির্বাচিত হয়েছিল।

চলতি বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘বিষণ্ন জোছনা’। এ প্রসঙ্গে কথাশিল্পী সাঈদ আজাদ বলেন, ‘বিষণ্ন জোছনা মূলত মানুষের আদিম প্রবৃত্তির প্রচ্ছন্ন বিবরণ। প্রেম, পরকীয়া, সমপ্রেম নিয়ে লেখা। মানুষের চরিত্রের একটি দিক হলো মাটির প্রতি লোভ। যার কারণে ভাইয়ে ভাইয়ে, প্রতিবেশীর সাথে প্রতিবেশীর বিবাদ হয়। মারামারি, খুনাখুনি হয়। যৌনতার মতো মাটির লোভও যেন মানুষের আদিমতম। বিষন্ন জোছনা মানুষের এসব আদিমতম তাড়নাকে ভেবেই লেখা।

সাঈদ আজাদের এক নিয়মিত পাঠক হাসান জামিল। তিনি বলেন, সাঈদ আজাদের প্রথম বইটি পড়ে ভালো লেগেছিল। এবার বইটি বাজারে আসতেই সংগ্রহ করি এবং পড়াও শেষ। কিন্তু এবার দেখলাম বইটির ক্রেতারা বেশ ভিড় করছেন। আমাদের মতো অনেকেই আগের বইটি পড়ে এবার বইটিতেও মজেছেন।

বইয়ের গল্প থেকে তিনি বলছিলেন, ‘বিষণ্ণ জোছনা’ পড়ে আবার আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, জোনাকি আর তৌফিকের কী দোষ ছিলো?

আমাদের চারপাশে বহু জোনাকি তৌফিক আছে, তাদের আর্তবেদনার খবর হয়তো আমরা দেখি না, হয়তো রাখিনা। তারপরও তো জোনাকি তৌফিকরা মিথ্যা হয়ে যায় না।

বিষণ্ণ জোছনা একটি প্রেমের উপন্যাস। সরল -জটিল, সাধারণ-স্বাভাবিক, গ্রামীণ জীবন প্রবাহে প্রেমের যে অনন্য উপস্থিতি , তারই বহিঃপ্রকাশ হলো "বিষণ্ন জোছনা"। বিষণ্ন জোসনার প্রেম, পাঠক হৃদয়ের সকল গ্রন্থিতে সরব হৃদয়ানুভূতির অনুভব দিবে।

বায়জিদ ভালো ছেলে, অনেকগুলো ভালো বিশেষণ তার নামের পাশে জুড়ে দিলেও বেমানান দেখায় না। তারপরও বায়জিদের মনে অশান্তি। ভালোবাসতে পারা না পারার, ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারা না পারার অশান্তি। এ অশান্তি মানসিক দ্বন্ধের। বায়জিদ খুব সহজেই ঝুমুরের প্রেম অস্বীকার করে, কিন্তু কিসের আশায়? বায়জিদ আসলে কার প্রেম চায়?

জোনাকি আর তৌফিক এক ভরা জোসনায় পাশাপাশি সাঁতার কেটেছে, জোছনা গায়ে মেখে পাশাপাশি শুয়ে থেকেছে। এমনই আরেক জোছনায় জোনাকি আর তৌফিক ভ্যানে পাশাপাশি থাকে। কিন্তু এ দু’জোছনার কী যে ফারাক, তা পাঠকমাত্রই অনুভব করবে এক মোহাচ্ছন্ন মুগ্ধতায়।

রফিকের মহানুভবতায়, ছোট্ট এ চরিত্রকে মনে রাখতে বাধ্য হয়েছি। রফিকের অনুকূলে চিন্তা করতে গিয়ে জোনাকি তৌফিক সম্পর্কে সগোক্তি করে, "আগুন শুধু আলো জ্বালিয়ে অন্ধকার দূরই করে না, অনেক সময় পুড়িয়ে ধ্বংস ও করে দেয়"।

আম্বিয়া ভবঘুরে আর দুঃখী। বাবা- মা মারা যাওয়ার পর মামা বাড়িতে বড় হয়েছে। দু’বার বিয়ে হয়েও স্বামীর সোহাগ ইশ্বর তার জন্য বরাদ্দ রাখেনি। দূর্ঘটনায় দ্বিতীয় স্বামী মৃত্যুর পর ভাসুররা দয়া করে গোয়াল ঘরের পাশে ঝুপড়ি ঘরে থাকতে দিয়েছে।
আম্বিয়াকে ভাসুররা দয়া খানিকটা করেছে ঠিক, তবে জায়েরা লাঞ্ছিত ও কম করেনি। তবুও আম্বিয়া ভিটে বাড়ির মায়া ছাড়তে পারেনি। ঠিক ভিটে মাটির মায়া নয়, আম্বিয়া থেকে যায় ভিটের পাশে থাকা স্বামীর কবরের মায়ায়। পাশে থাকা স্বামীর কবর আম্বিয়ার একাকিত্ব দূর করে দেয়, সঙ্গ দেয় রাতের নির্জনতায়। সমগ্র উপন্যাস জুড়েই আম্বিয়ার উপস্থিতি। আম্বিয়ার সকল চরিত্রের সাথে যোগাযোগ আছে। তার চোখ অনেক কিছুর সাক্ষী, জীবন বাস্তবতায় আম্বিয়ার অভিজ্ঞতা কম নয়।

জামান মায়ের কারণে গ্রাম ছাড়ে। আঠারো বছর পর ফিরে এসে দেখে বিজন ভিটায় অপরিচিত এক বসতি। বয়সের সাথে অভিজ্ঞতা বেড়েছে। মায়ের অপরাধ হালকা হয়ে উঠেছে অনেকটা।

জামানকে শরীর টেনে নিয়ে যায় এক দিকে কিন্তু মনে শান্তির নীড় "সুন্দর পরিবারের স্বপ্ন "। সায়রাকে বিয়ে করেও জামান শান্তির নীড়ের সন্ধান পায়না। আবার ছাড়ে গ্রাম। রোগা শরীর নিয়ে ফিরে এসে সায়রার আন্তরিক যত্নে খানিকটা সুস্থ হয়।সায়রা জামানকে আশ্বাস দেয় সাথে থাকার, ভালোবাসার।শুরু হয় জামান সায়রার প্রণয় পরিণতির নতুন সূচনা।

তিন মেয়ে এক ছেলে নিয়ে সিরাজ- আমিনার সংসার। জীবনের বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাত তারা এক সাথে অতিক্রম করেছে। ঋণের ভারে জর্জরিত সিরাজকে সাহস যোগায় আমিনা।

বায়জিদ বাংলা সাহিত্যে এক নতুন চরিত্র। এ চরিত্রটা নিয়ে কাজ করার ভাবনাটা লেখকের সাহসী সিদ্ধান্ত ছিলো। পাঠক কিভাবে নিবে জানি না, তবে আমার মনে হয়েছে লেখক অত্যন্ত সফলভাবে দৃঢ়তার সাথে চরিত্রটি উপস্থাপন করেছেন। বায়জিদের মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা, মানসিক দ্বন্ধ, সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলার আকাঙ্ক্ষা, সর্বোপরি বায়জিদের পরিণতি পাঠক মনে দাগ কাটবে। সালিসের দিনের বালক বায়জিদ আর পরিণতির বায়জিদ পাঠক মনে ভাবনার উদয় করার সুযোগ রাখে বলে আমার মনে হয়েছে।

সিরাজের ভাগ্য বিড়ম্বনার ইতিহাস সামান্য নয়। মনে হয়েছে ভাগ্য বিধাতা ভাগ্য লিখবার সময় সিরাজের প্রতি প্রসন্ন ছিলো না। আপন ভাই মিরাজের লালসার স্বীকার হয়ে সিরাজের যে দূর্দশার সূচনা, তা থেকে সিরাজ মুক্ত হতে পারলো কই! রফিকের মহানুভবতায় সিরাজ যদিও স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ছাড়বার সুযোগ পায়, কিন্তু সে নিঃশ্বাসও মনে হয় ঋণের সুদের নাসিকারন্ধে আঁটকে যায়। আমিনার সান্ত্বনা ছাড়া সিরাজের আর আছেই কী? সমাজ-রাষ্ট্র কি পারলো সিরাজের জন্য ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে?

প্রকাশিত বই
বই মেলার সংবাদ
বই মেলায় আড্ডা
book-fari-adda
b5
b4
b3
b2
b1
ভিডিও
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
fair            
somoy