বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ - বিপিএল

team-bangladeshবাংলাদেশ team-bangladesh

বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপ খেলে সপ্তম আসরে। এরপর টানা পাঁচ আসরে অংশ নিয়ে টাইগাররা। এরমধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য ২০০৭ সালে সুপার এইট এবং ২০১৫ সারে কোয়ার্টার ফাইনাল।

১৯৯৯: প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশ

অধিনায়ক: আমিনুল ইসলাম বুলবুল
কোচ: গর্ডন গ্রিনিজ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপের সপ্তম আসরে আরাধ্য স্বপ্ন পূরণ হয় বাংলাদেশের। তবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ আগেই পেয়েছিল বাংলাদেশ। ১৯৯৪ সালে কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিতে ব্যর্থ হলে সেই স্বপ্ন আরো চার বছরের জন্য ঝুলে যায়। ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফির আসর তাই ছিল অগ্নিপরীক্ষা। আর সেই কঠিন পরীক্ষা পার করতে বাংলাদেশ নিয়ে আসে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান গর্ডন গ্রিনিজকে। ১৯৯৬ সালে মালয়েশিয়ায় এসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এই সাফল্যের পর তখনকার বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড আটঘাট বেঁধে নামে। লক্ষ্য একটাই-বিশ্বকাপ খেলতে হবে। কোচ গর্ডন গ্রিনিজের অধীনে চলল চার-পাঁচ মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ। অবশেষে মালয়েশিয়া যাত্রা। লক্ষ্য আইসিসি ট্রফি, স্বপ্ন বিশ্বকাপ। অধিনায়ক আকরাম খান।

ফাইনালে কেনিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। বৃষ্টিবিঘ্নিত স্নায়ুচাপের ম্যাচের শেষ বলে কেনিয়াকে ২ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ ঘরে তোলে আইসিসি ট্রফির স্বপ্নের শিরোপা। এ দেশের ক্রিকেটের মানচিত্রই চিরদিনের জন্য বদলে দেয় ৯৭–এর আইসিসি ট্রফি। বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ে যুক্ত হয় নতুন একটি নাম-বাংলাদেশ।

অচেনা ও কঠিন ইংলিশ কন্ডিশনে ১৯৯৯ বিশ্বকাপ। স্থানীয় কাউন্টি দলগুলোর বিপক্ষে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। এসেক্স আর আর মিডলসেক্সের বিপক্ষে জয় এনে দেয় বাড়তি আত্মবিশ্বাস। গ্রুপ ‘বি’তে টাইগারদের সঙ্গী ছিল পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং স্কটল্যান্ড।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ছিল বিপক্ষে (১৭ মে ১৯৯৯, চেমসফোর্ডে)। তৃতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ২২ রানে হারিয়ে প্রথম জয় লাভ করে। তবে এরই মধ্যে ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি ছিল নর্দাম্পটনে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ঐতিহাসিক জয়ের সেই ম্যাচটির কয়েক ঘণ্টা আগে গ্রিনিজের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিদায়ের চিঠি। সে সময় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কিছু ব্যাপারে গ্রিনিজের টানাপোড়েন চলছিল। ভেতরে-ভেতরে নানা নাটকের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নেমে আরও নাটকীয়তা। সেই ম্যাচটাই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে যায় আরেক ধাপে। চাকরি হারানোর পরেও গ্রিনিজ সেদিন মাঠে এসে দেখা করে গিয়েছিলেন খেলোয়াড়দের সঙ্গে।

নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে দু’টি ম্যাচ জিতলেও তিনটি ম্যাচে পরাজিত হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশকে।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্কোয়াড:

১. আমিনুল ইসলাম বুলবুল (অধিনায়ক)
২. আকরাম খান
৩. ফারুক আহমেদ
৪. শাহরিয়ার হোসেন
৫. মেহরাব হোসেন অপি
৬. এনামুল হক
৭. নাঈমুর রশিদ
৮. নাঈমুর রহমান দুর্জয়
৯. খালেদ মাহমুদ সুজন
১০. খালেদ মাসুদ পাইলট (উইকেটরক্ষক)
১১. মোহাম্মদ রফিক
১২. সাইফুদ্দিন আহমেদ
১৩. হাসিবুল হোসেন শান্ত
১৪. মানজারুল ইসলাম
১৫. মিনহাজুল আবেদীন নান্নু
কোচ: গর্ডন গ্রিনিজ।

২০০৩: হতাশায় মোড়া বিশ্বকাপ

অধিনায়ক: খালেদ মাসুদ পাইলট
কোচ: মোহসিন কামাল (পাকিস্তান)

বিশ্বকাপের পরের আসরেও (২০০৩ সালে) অংশ নেয় বাংলাদেশ। নিজেরদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ আসর মোটেও সুখকর ছিল না টাইগারদের জন্য। সেবার বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৪টি দল ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ ছাড়াও ছিল শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং কানাডা। দুর্বল কিছু প্রতিপক্ষ পেলেও নিজেদের ছয় ম্যাচেই হেরে দেশে ফেরে বাংলাদেশ।

২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের একাদশ:
১. খালেদ মাসুদ পাইলট (অধিনায়ক/উইকেটরক্ষক)
২. আকরাম খান
৩. আল শাহরিয়ার
৪. অলক কাপালি
৫. এহসানুল হক
৬. হাবিবুল বাশার
৭. হান্নান সরকার
৮. খালেদ মাহমুদ সুজন
৯. মানজারুল ইসলাম
১০. মাশরাফি বিন মুর্তজা
১১. মোহাম্মদ আশরাফুল
১২. মোহাম্মদ রফিক
১৩. সানোয়ার হোসেন
১৪. তালহা জুবায়ের
১৫. তাপস বৈষ্য
১৬. তুষার ইমরান

২০০৭: বিশ্ব দেখলো নতুন এক বাংলাদেশ

অধিনায়ক: হাবিবুল বাশার সুমন
কোচ: ডেভ হোয়াটমোর

২০০৭ সালে তৃতীয়বার বিশ্বকাপে অংশ নেয় বাংলাদেশ। এ আসরে নতুন বাংলাদেশকে দেখতে পায় ক্রিকেট বিশ্ব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনুষ্ঠিত হওয়া সেই আসরে আইসিসির পূর্ণাঙ্গ ১০ সদস্যের সঙ্গে আরো ছয়টি সহযোগী সদস্য দেশ অংশ নেয়। চারটি সিডে ভাগ হয়ে গ্রুপ পর্বে লড়াই করে ১৬ দল। ‘বি’ গ্রুপে শ্রীলঙ্কা, ভারত এবং বারমুডাকে পায় বাংলাদেশ। এই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ভারতকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে দেয় মাশরাফি, মুশফিক, সাকিবদের মতো নবাগতদের নিয়ে গড়া নিয়ে বাংলাদেশ দল। এতে বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় শক্তিশালী ভারতের। এরপর বারমুডাকে সাত উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্ব টপকে সুপার এইট-এ জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। সেখানেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬৭ রানে হারিয়ে চমক দেখায় টাইগাররা। তবে বাকি সাত ম্যাচ হেরে সেখানেই থেমে যায় বাংলাদেশ।

২০০৭ সালে বাংলাদেশের স্কোয়াড:
১. হাবিবুল বাশার সুমন (অধিনায়ক)
২. আব্দুর রাজ্জাক
৩. আফতাব আহমেদ
৪. ফরহাদ রেজা
৫. জাভেদ ওমর
৬. মাশরাফি বিন মুর্তজা
৭. মোহাম্মদ আশরাফুল
৮. মোহাম্মদ রফিক
৯. মুশফিকুর রহিম
১০. রাজিন সালেহ
১১. সাকিব আল হাসান
১২. শাহাদাত হোসেন
১৩. শাহরিয়ার নাফিস
১৪. সৈয়দ রাসেল
১৫. তামিম ইকবাল
১৬. তাপস বৈশ্ব

২০১১: ঘরের মাঠে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়

কোচ: সাকিব আল হাসান
অধিনায়ক: জেমি সিডন্স

২০১১ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজনের গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। সেবার শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আসের আয়োজক হয় বাংলাদেশ। এ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল বাংলাদেশে। আগের আসরের থেকে দুই দল কম নিয়ে শুরু হয় বিশ্বকাপ।  ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসকে। আয়ারল্যান্ডকে ২৭ রানে পরাজিত করে প্রথম বিজয়ের হাসি হাসে টাইগাররা। পরে ইংল্যান্ডকে দুই উইকেটে ও নেদারল্যান্ডসকে ছয় উইকেটে হারায়। তারপরেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশকে।

২০১১ বিশ্বকাপের স্কোয়াড:

১. সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক)
২. মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক)
৩. তামিম ইকবাল
৪. ইমরুল কায়েস
৫. জুনায়েদ সিদ্দিকী
৬. শাহরিয়ার নাফিস
৭. মোহাম্মদ আশরাফুল
৮. রকিবুল হাসান৯.
১০. মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
১১. নাঈম ইসলাম
১২. রুবেল হোসেন
১৩. আব্দুর রাজ্জাক
১৪. সোহরাওয়ার্দী শুভ
১৫. নাজমুল হোসেন

২০১৫: পরিণত বাংলাদেশের সেরা সাফল্য

অধিনায়ক: মাশরাফি বিন মুর্তজা
কোচ: চান্ডিকা হাথুরুসিংহে

বিশ্বকাপের ১১তম আসর বাংলাদেশের জন্য পঞ্চম। এরিমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দুই দশকেরও বেশি সময় পার করে ফেলেছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞতার ভান্ডারটাও হয়েছে বেশ সমৃদ্ধ। বেশ কিছু সিরিজে সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে নিজেদের একটা সমীহজাগানিয়া পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুরুটাও হয় রাজকীয়। গ্রুপ পর্বের নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১০৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায়। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে ১ পয়েন্ট লাভ করে বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেও চতুর্থ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ছয় উইকেটে হারায়। পঞ্চম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১৫ রানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের ঘরের মাটিতে দারুণ লাড়াই করেও হার মানতে হয় বাংলাদেশকে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১০৯ রানের বড় নিয়েই বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশকে।

২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্কোয়াড:

১. মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক)
২. সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক)
৩. তাসকিন আহমেদ
৪. এনমুল হক (উইকেটরক্ষক, পরে ইনজুরির কারণে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।)
৫. আল আমিন হোসেন (পরে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়)
৬. নাসির হোসেন
৭. রুবেল হোসেন
৮. তামিম ইকবাল
৯. তাইজুল ইসলাম
১০. ইমরুল কায়েস
১১. মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
১২. মুশফিকুর রহিম
১৩. সাব্বির রহমান
১৪. সৌম্য সরকার
১৫. আরাফাত সানি

পয়েন্ট টেবিল

দল ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট রেটিং
team-bangladeshবাংলাদেশ -০.১৩৩

খেলার সময়সূচী

০২-০৬-২০১৯, ১৫:৩০
বাংলাদেশ  বনাম  দক্ষিণ আফ্রিকা ওভাল, লন্ডন
০৫-০৬-২০১৯, ১৮:৩০
বাংলাদেশ  বনাম  নিউজিল্যান্ড ওভাল, লন্ডন
০৮-০৬-২০১৯, ১৫:৩০
বাংলাদেশ  বনাম  ইংল্যান্ড কার্ডিফ ওয়েলস স্টেডিয়াম, কার্ডিফ
১১-০৬-২০১৯, ১৫:৩০
বাংলাদেশ  বনাম  শ্রীলঙ্কা ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ড, ব্রিস্টল
১৭-০৬-২০১৯, ১৫:৩০
বাংলাদেশ  বনাম  উইন্ডিজ কাউন্টি গ্রাউন্ড টনটন, টনটন
২০-০৬-২০১৯, ১৫:৩০
বাংলাদেশ  বনাম  অস্ট্রেলিয়া ট্রেন্ট ব্রিজ, নটিংহ্যাম
২৪-০৬-২০১৯, ১৫:৩০
বাংলাদেশ  বনাম  আফগানিস্তান হ্যাম্পশায়ার বোল, সাউদাম্পটন
০৩-০৭-২০১৯, ১৫:৩০
বাংলাদেশ  বনাম  ভারত এজবাস্টন, বার্মিংহ্যাম
০৫-০৭-২০১৯, ১৫:৩০
বাংলাদেশ  বনাম  পাকিস্তান লর্ডস, লন্ডন

দলের সদস্য