SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ০৬-১১-২০১৯ ১৪:২৩:১৬

হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন হয়নি

12

এক দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি এ নির্দেশনার কথা জানেই না প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। যা খুবই উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন নারীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো। হাইকোর্টের এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল সবাইকে নিজ নিজ স্থান থেকে কাজ করার পরামর্শ দেন নারী নেত্রীরা।

নীলিমা, ৫ বছর কাজ করেছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কর্মস্থলে টিকে থাকা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যৌন হয়রানি ও নানা হেনস্তার অভিযোগ করেন তিনি। এক পর্যায়ে তুচ্ছ অজুহাতে চাকরিচ্যুত করা হয় তাকে।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, আমি যেখানে কাজ করতাম সেখানে অভিযোগ দেওয়ার মতো কোনো সেল ছিল না। লড়াই করে কাজ করে গেছি, তুচ্ছ অজুহাতে বের করে দেওয়া হয়েছে। বের করে দেওয়ার সময় আমাদের কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়নি। যেহেতু আমার কাছে প্রমাণ ছিল না, বলার জায়গা ছিল না তাই বিচার পাইনি।

এমন ঘটনার শিকার কর্মজীবী নারীদের সংখ্যা অনেক। শুধু কর্মজীবী নারীই নয়, যৌন হয়রানির শিকার শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু কর্মস্থল কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবখানেই নারীর কথা বলার জায়গা খুবই কম। এ প্রেক্ষাপটেই ২০০৯ সালে হাইকোর্ট দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেল গঠনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু আজও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে গঠন করা হয়নি এ ধরনের সেল।

গবেষণা বলছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৬৫ দশমিক কর্মকর্তা জানেনই না হাইকোর্টের এ নির্দেশনার কথা।

অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, যখন আমরা গবেষণাটি তুলে নিয়ে আসি তখন দেখা যায়, এটা খুবই চিন্তার বিষয়। কারণ হলো কেউ সেভাবে আইনটি প্রয়োগই করছে না।   

নারী নেত্রী আয়শা খানম বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বাস্তবায়ন কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।