SomoyNews.TV

শিক্ষা সময়

আপডেট- ১৫-১০-২০১৯ ১২:১৪:৫৫

আবরার হত্যা: আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বিকেলে

-10

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) আবারো আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পসে জড়ো হচ্ছেন। বিকেলে আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে। ভর্তি পরীক্ষার জন্য  দুই দিন আন্দোলন শিথিল করা হয়।

জানা গেছে, আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করবেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। সকালে ক্যাম্পাসে অবস্থান করলেও কোন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেননি আন্দোলনকারীরা।


তবে ব্যাচ ভিত্তিক কয়েক দফা বৈঠক শেষে বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। এসময় পরবর্তী করণীয় নিয়ে নিজেদের মধ্য আলোচনা করেন তারা। দুপুরে ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৪ অক্টোবর) আবরার হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে  গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি পালন করেন তারা। বলেন, বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার জন্য রোব ও সোমবার আন্দোলন শিথিল করা হয়। এরইমধ্যে গণভবনে আবরারের বাবা মা ও ছোট ভাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন।

বুয়েট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে তিন ঘণ্টার লিখিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষ হয় দুপুর ১২টায়। শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা শেষ হয়। মোট পরীক্ষার্থীর ৯০ শতাংশই পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন। বুয়েট ক্যাম্পাসে ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকেরা ভিড় করেন ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কর্মসূচি পালিত হয়। আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি পালিত হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্দোলন করছেন। সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে, তাহলে আন্দোলন কেন--এ  প্রশ্নের জবাবে আন্দোলনরতরা জানান, মেনে নেয়ার ঘোষণা আর বাস্তবায়ন এক নয়, কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তবায়নও দেখতে চাই।

ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে আমরা কাজ করছি। আবরার হত্যার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন ভর্তি পরীক্ষায় প্রভাব ফেলেনি। বুয়েটের সংকট নিরসনে কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। আশা করি, দ্রুতই সংকট নিরসন হবে।

এর আগে শুক্রবার উপাচার্য জানান, বুয়েটের হলে হলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বাইরে কেউ হলে থাকতে পারবেন না। বুয়েটে ছাত্র-শিক্ষকদের সাংগঠনিক রাজনীতিও থাকবে না।

প্রসঙ্গত: গত ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ ব্যাচ) ছাত্র ফাহাদকে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে ৭ অক্টোবর হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলায় ১০১১ নম্বর কক্ষে।

এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আবরার হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন চারজন। তারা হলেন: বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ, মেফতাহুল ইসলাম ও মুজাহিদুর রহমান। আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, কীভাবে কত জন মিলে নির্যাতন করে সেদিন আবরারকে তারা হত্যা করেন। জবানবন্দিতে জানা গেছে, আবরারকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প ও মোটা দড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যায় অংশ নিয়েছিলেন অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ, মেহেদি হাসান রবিনসহ অন্যরা। এজাহারে নাম না থাকায় না আলোচনা সমালোচনার পর বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা  গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড দেয়। বর্তমানে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়