SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বিনোদনের সময়

আপডেট- ১৩-১০-২০১৯ ১৮:২২:৪০

সুরের রাজা কিশোর কুমারের চার অদ্ভুত তথ্য

kishor-kumar-copy

কিছু মানুষের কখনও মৃত্যু হয় না, তারা মরে গিয়েও বেঁচে থাকেন! পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার পরেও তারা যুগ যুগ বেঁচে থাকেন নিজেদের কর্ম দিয়ে। ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর ৫৮ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। বলছি কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী কিশোর কুমারের কথা। 

কিশোর কুমারকে শুধু ভারত নয়, উপমহাদেশের সেরা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে স্মরণ করা হয়। আজ তার ৩২ তম মৃত্যুবার্ষিকী। তার জানা-অজানা গল্প সময় নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। 

মৃত্যুবর্ষিকীতে কলকাতার ছবিপাড়া টালিগঞ্জে কিশোর কুমারের ভাস্কর্যে মাল্যদান ও প্রদীপ জ্বালিয়ে দিনটির সূচনা করা হয়। ফুল আর মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় কিংবদন্তি এই শিল্পীকে। শ্রদ্ধা জানান টালিগঞ্জের শিল্পীসহ কলকাতার বিশিষ্টজনেরা। 

বাংলা কিংবা হিন্দি- দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই তার সমানভাবে দাপট নিয়ে চলেছেন। আজও তার গান সমান জনপ্রিয়। তার গানের একটুকুও মলিন হয়নি দীর্ঘ ৩২বছর পরও। ছোট থেকে বড় প্রত্যেকেই তার গানে মুগ্ধ। তার কন্ঠে আছে যাদু, সেই যাদুতেই শ্রোতাদের আকর্ষণ করে। সবাইকে বাধ্য করে তার গান শুনতে। মানুষের স্মৃতিতে, মনে, ভালো লাগায়, খারাপ লাগায় চিরসঙ্গী হয়ে আজও আছেন কিশোর কুমার।

১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট ভারতের মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়াতে এক বাঙালি পরিবারে কিশোর কুমারের জন্ম। তার আসল নাম আভাস কুমার গাঙ্গুলি। বাবা কুঞ্জলাল গাঙ্গুলি ছিলেন একজন আইনজীবী। মা গৌরী দেবী ছিলেন ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে। কৈশোরে শিল্পাঙ্গনের সঙ্গে কিশোর কুমারের জানাশোনা। তার বড় ভাই অশোক কুমার তখন বলিউডের বড় অভিনেতা। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট কিশোর কুমারের স্বপ্ন ছিল ভাইয়ের মতো নায়ক হওয়া। বড় ভাই অশোকের সাফল্য তাকে বেশ প্রভাবিত করেছিল। তবে ভাগ্যচক্রে অভিনেতা না হয়ে, অমর শিল্পী হয়েছেন কিশোর। যদিও অভিনয়টাও কিছু করেছেন তিনি।

তিনি ভারতীয় গায়ক, গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক,চিত্রনাট্যকার এবং রেকর্ড প্রযোজক। তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের সর্বাধিক সফল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে বিবেচিত হন। 

কিংবদন্তি এই শিল্পীর জীবনের চার সংখ্যা নিয়ে অদ্ভুত কাহানী রয়েছে। কিশোর কুমার ৪ আগস্ট ৪ টায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জীবনে বিয়ে করেছিলেন ৪ টি।  শুধু তাই নয় তিনি ছিলেন ৪ সন্তানের পিতা। অভিনয় জগতে পা রাখার পর তিনি ৪ টি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

বাংলা, হিন্দি, ভোজপুরি, অসমিয়া-সহ মোট ২০০০-এরও বেশি গান গেয়েছেন কিশোর কুমার। এছাড়াও তিনি তার ব্যক্তিগত অ্যালবামেও বিভিন্ন ভাষায় গান করেছেন। তার বাংলায় গাওয়া গানগুলি সর্বকালের ধ্রুপদী গান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

তিনি ৮ বার শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য গায়কের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন এবং একই বিভাগে সর্বাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার বিজয়ের রেকর্ড করেছেন। তাকে মধ্যপ্রদেশ সরকার কর্তৃক লতা মঙ্গেশকর পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং তার নামে হিন্দি চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য কিশোর কুমার পুরস্কার প্রদান চালু করে।

সাধারণত গায়ক হিসাবে তাকে দেখা হলেও তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতাও ছিলেন। তার অভিনীত বিখ্যাত কয়েকটি কমেডি চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে বাপ রে বাপ (১৯৫৫), পড়োশন (১৯৬৮), হাঙ্গামা (১৯৭১), পেয়ার দিবানা (১৯৭৩), বাড়তি কা নাম দাড়ি (১৯৭৪) চলতি কা নাম গাড়ি (১৯৫৮), হাফ টিকিট (১৯৬২) প্রভূতি।