SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১১-০৯-২০১৯ ১৪:৫৪:০৭

‘ধর্ষণ বন্ধে জৈবিক চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা থাকতেই হবে’

rape

সম্প্রতি দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ধর্ষণের ঘটনা। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিকৃত মানসিকতা, বিচারহীনতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে বাড়ছে এ ধরণের ঘটনা। তবে অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি সভ্য সমাজে মানুষ কু-প্রবৃত্তি, রিপু দমন করে চলবে সেটিই প্রত্যাশিত।

সম্প্রতি পাবনা সদর এলাকায় তিন সন্তানের মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে নির্যাতিত নারীকে থানায় ডেকে নিয়ে স্বামীকে তালাক দিয়ে ধর্ষক রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দেন ওসি ওবাইদুল ইসলাম। এ ছাড়া যশোরের শার্শায় বাড়িতে ঢুকে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ খোদ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেই।

শুধু এ দুটি ঘটনাই নয়; সম্প্রতি শিশু থেকে মধ্যবয়স্ক এমনকি দু’একটি ক্ষেত্রে বৃদ্ধ নারীরাও রক্ষা পাচ্ছেন না এক শ্রেণির বিকৃত মনা পুরুষের হাত থেকে। ধর্ষণ কিংবা যৌন হয়রানির তালিকায় গৃহকর্মী থেকে শুরু করে রয়েছেন সরকারি-বেসরকারি পদস্থ কর্মকর্তাও। নির্যাতনকারীর তালিকায়ও রয়েছে একেবারেই নিরক্ষর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও। শিক্ষা সভ্যতায় এগিয়ে যাওয়ার দাবি করে গড়ে ওঠা আধুনিক সমাজের এ কোন অন্ধকার রূপ- প্রশ্ন ছিল সমাজ বিজ্ঞানীদের কাছে।

সমাজ বিজ্ঞানী অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, প্রত্যেকটা মানুষের এটা সহজাত প্রবৃদ্ধি জৈবিক চাহিদা মেটানোর। এখানে যদি তারা ব্যবস্থা না পায় তাহলে তারা অন্য পথে যাবেই। শিল্প এলাকায় এবং বড় বড় শহরে জৈবিক চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা থাকতেই হবে।  

বিচারহীনতার সংস্কৃতি, জবাবদিহিতা না থাকা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণেই এ অপরাধের ভয়াবহতা বাড়ছে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।

নেহাল করিম আরো বলেন, কোনো মানুষই পূর্ণাঙ্গ না, অসম্পূর্ণতা থেকে যায়।

অপরাধ বিশ্লেষক শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, একটা মেয়ে যদি ঘরের মধ্যেই নিরাপদ না হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, পুলিশ স্টেশনে নিরাপদ না হয় তাহলে-এটা কীভাবে সভ্য সমাজ হয়?  

ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য এ অপরাধ দমন করতে না পারলে সামাজিক সম্পর্কগুলো আস্থার সংকটে পড়বে বলে মনে করেন তারা।