SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৮-০৭-২০১৯ ১৩:১৮:৩২

জাতীয় পার্টি টিকবে কিনা অনিশ্চিত: বিশ্লেষক

japa-future-jpg-2

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচিত সরকার থেকে ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতাসীন থাকেন ৯ বছর। গড়েন রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি। যা এখনও বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ফ্যাক্টর। বিশ্লেষকদের মতে, এরশাদবিহীন জাতীয় পার্টিতে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে দেখা দিতে পারে বিশৃঙ্খলা। দলটি ভবিষ্যতে কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে বলেও মত বিশ্লেষকদের। 

সেনা বাহিনীর নেতৃত্ব থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর এরশাদ অন্য সেনা শাসকের মতোই রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদের দল জাতীয় পার্টির জন্ম। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতীয় পার্টি এরশাদের একক নেতৃত্বে পরিচালিত হয়ে আসছিল।

আদর্শিক ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এরশাদ বেঁচে থাকা অবস্থায়ই জাতীয় পার্টি ৫ ভাগে বিভক্ত ছিল। এছাড়া, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে জাপায় এরশাদ ও রওশনকে কেন্দ্র করে দলে দুটি বলয় তৈরি হয়।

জীবনের শেষ বেলায় এসে নিজের ছোট ভাই জিএম কাদেরকে নিজের উত্তরসূরি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা নিয়েও দলে রওশন পন্থিদের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট।

দেশের ভোটের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি একটি ফ্যাক্টর হলেও এটি ছিল এরশাদকে ঘিরে। তাই এরশাদ ছাড়া জাতীয় পার্টিতে জিএম কাদের এবং রওশন পন্থিদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব স্পষ্টতই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, এই দলটির কোন আদর্শ নাই। এই দলটি দলছুট বিভিন্ন সুবিধাবাদী নিয়ে তৈরি হয়েছিলো। আর দলের প্রধান তিনিই সব ছিলেন। ব্যক্তি কেন্দ্রিক একটি দল, এখন ব্যক্তি নাই দলটি থাকবে কিনা অনিশ্চিত। 

তিনি বলেন, প্রথমত দলের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। জিএম কাদেরের একটি গোষ্ঠী, রওশন এরশাদের গোষ্ঠী। তারা বিভক্ত হবে। আগামী নির্বাচনের আগে এরা বিচার করবে আওয়ামী লীগ না বিএনটি ক্ষমতায় থাকবে তারা সেই দলেই যাবে।  

তাদের মতে, দলের অভ্যন্তরে নেই গণতান্ত্রিক চর্চা। ফলে জাতীয় পার্টি নানা ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে বলেও মত বিশ্লেষকদের। 

গবেষক লেখক ড. মুনতাসির মামুন বলেন, জাতীয় পার্টির কাছে আদর্শ কোন বিষয় নয়, ক্ষমতার পাশাপাশি যে দল তাদের রাখবে তাদের সঙ্গেই থাকবে। এরশাদের দল ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হতে পারে। কিছু বিএনপিতে যাবে কিছু আওয়ামী লীগে যাবে। কিছু নানা রকম বিভক্তি হবে। মূল ধারা থাকলে যারা ক্ষমতার সাথে থাকবে তারাই থাকবে। 

জাতীয় পার্টি তথা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভোটের রাজনীতির পুরোটাই রংপুর কেন্দ্রিক। তাই এরশাদের মারা যাওয়ায় জাতীয় পার্টির গুরুত্ব বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কমবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।