SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ১১-০৭-২০১৯ ২০:৩৮:২২

যেকারণে কংগ্রেসে ভাঙনের সুর

cong-bjp

রাহুল গান্ধীর পর আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার পদত্যাগের জেরে ভাঙন ধরতে শুরু করেছে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসে। কর্ণাটক রাজ্যে জোট সরকার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন দলটির নেতারা। আর গোয়ায় কংগ্রেসের ১০ বিধায়ক যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। এ অবস্থায় ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি রাজ্যে রাজ্যে বিরোধী নেতাদের অর্থের লোভ দেখিয়ে নিজ দলে টানছে বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। তবে এসব কথা-বার্তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির।

লোকসভা নির্বাচনে বড় জয়ের পর ভারতের রাজনীতিতে এখন বিজেপির একচ্ছত্র আধিপত্য। বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসসহ আঞ্চলিক দলের শীর্ষ নেতারা ভিড়ছেন ক্ষমতাসীনদের ডেরায়। কর্ণাটকের পর এবার গোয়ার রাজনীতিতেও বিজেপি প্রভাব, যার জেরে বিরোধী দলের ১০ জন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। এতে রাজ্যটিতে ২৭ বিধায়ক নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এখন বিজেপি। আর কংগ্রেসের বিধায়ক কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।

অন্যদিকে, কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএসের জোট সরকারও পতনের মুখে। বুধবার কংগ্রেসের আরও দুইজন পদত্যাগ করার পর, বিধানসভা থেকে সরে যাওয়া বিধায়কের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৮ জনে। মুম্বাইয়ে চলে যাওয়া বিদ্রোহী এ নেতারাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েও ব্যর্থ হন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর প্রতিনিধি দল। কারণ মুম্বাইয়ে তাদের হোটেলের আশপাশে রাজি করা হয় ১৪৪ ধারা। হোটেলে ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ।

কর্ণাটক জোট সরকার মন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বলেন, 'আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে এসেছিলাম কিন্তু পারলাম না। বিজেপির মদদের ফলে এমনটা হয়েছে। যা সত্যি লজ্জার।'

আর বিদ্রোহী নেতাদের মত, কংগ্রেস সরকারের ব্যর্থতার কারণেই জোট ছেড়েছেন তারা।

বিদ্রোহী নেতা বলেন, 'কর্ণাটকে সরকার ঠিক মতো চলছে না। আমরা অনেকবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এর পেছনে কংগ্রেসের ব্যর্থতাই দায়ী। এ জন্য পদত্যাগ করেছি। আমরা অর্থের কাঙ্গাল নই, তাই অর্থ দিলেই বিক্রি হবো এমনটা নয়। যারা অভিযোগ করছেন তারা মিথ্যবাদী।'

এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন। মমতার মন্তব্য, অহংকারী হয়ে ওঠা বিজেপি ভারতের সংবিধানকে বিপদজ্জনক অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছেন। আর বিজেপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্র হত্যার অভিযোগ এনেছে কংগ্রেস। দেশে গণতন্ত্র নেই দাবি কোরে, দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, মোদি প্রশাসন ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।

ভারতীয় কংগ্রেস জ্যেষ্ঠ নেতা গোলাম নবী আজাদ বলেন, 'বিজেপির কর্মকাণ্ডে কারণে দলটির ওপর সবাই রাগান্বিত। তারা গণতন্ত্র শেষ করে দিয়েছে। এজন্য তারা কাজে লাগাচ্ছে রাজ্য গভর্নরদের। আমরা এর নিন্দা জানাই এবং জনগণকে আহ্বান জানাবো যেন তারা গণতন্ত্র রক্ষায় এগিয়ে আসে।'

বিরোধী নেতারা বলছেন, রাজ্যে রাজ্যে অর্থ বিলিয়ে সরকার ভাঙতে চাইছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, নেতাকর্মীদেরও দলে ভেড়াচ্ছে দলটি। তবে এতে কোনো দোষ দেখছেন না ক্ষমতাসীনরা। উল্টো বিজেপি বলছে, কংগ্রেসের ব্যর্থতার কারণেই দলটির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।