SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ১১-০৭-২০১৯ ১৬:৩৯:০২

সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যের গোপনীয়তা না থাকায় মে’র হতাশা

us-uk-tension-up

ফাঁস হওয়া ইমেইল নিয়ে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র টানাপোড়েনের মধ্যে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কিম ডারোচের পদত্যাগ নিয়ে সরগরম কূটনৈতিক অঙ্গন। ডারোচ কোনভাবেই আর দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না জানিয়ে পদত্যাগের পর, প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এ পদত্যাগের ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যের গোপনীয়তা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন মে।

এদিকে, ডারোচকে পুরোপুরি সমর্থন না দেয়ায় কনজারভেটিভ নেতা বরিস জনসন সমালোচনার মুখে বলেন, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের ইমেইল ফাঁস হওয়ার ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়।

যে ব্যক্তির ইমেইল ফাঁস হওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, পদত্যাগ করলেন সেই ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কিম ডারোচ। বুধবার পররাষ্ট্র দফতরে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পক্ষে আর দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। তার পদত্যাগের বিষয়টি পার্লামেন্টে নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এ ঘটনাকে দু:খজনক মন্তব্য করে বলেন, ডারোচির পদত্যাগ অপ্রত্যাশিত।

ডারোচিকে আমরা সবাই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিলাম, তারপরও তিনি জানালেন তার পক্ষে আর সম্ভব নয় দায়িত্ব পালন। তিনি যুক্তরাজ্যের জন্য সারাজীবন দায়িত্ব পালন করে গেচেন, তার সম্মানজনক বিদায় কাম্য। সুশাসন নির্ভর করে সরকারি কর্মকর্তারা কতটুকু মুক্ত পরামর্শ দিতে পারছেন তার ওপর। আমি আশা করবো তা করার আত্মবিশ্বাস আমাদের কর্মকর্তাদের আছে।
 
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কিম ডারোচ লন্ডনে পাঠানো কিছু ই-মেইলে ট্রাম্প প্রশাসনকে অকর্মা এবং অযোগ্য বলে মন্তব্য করার জবাবে টুইট বার্তায় দারোচের পাশাপাশি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঐ রাষ্ট্রদূত যুক্তরাজ্যের জন্য ঠিকমতো কাজ করছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও, ব্রেক্সিট ইস্যুতে থেরেসা মে তার পরামর্শ না শুনে নির্বোধের মতো পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেই, ব্রিটেন তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে বলেও টুইট বার্তায় জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কনজারভেটিভ দলের অনেক সদস্যই ডারোচের পক্ষে কথা বললেও সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী বরিস জনসন ডারোচকে পূর্ণ সমর্থন না দেয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। মূলত ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারনেই তিনি এ বিষয়ে ডারোচের পক্ষ নেননি বলে ধারণা করা হ্ছে। তবে রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগের পর এ ঘটনাকে দু:খজনক বলে তিনি থেরেসা মের মতই বলেন সরকারি কর্মকর্তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গোপনীয়তা থাকা উচিৎ। 
 
তবে এর আগে ইমেইল ফাঁসের এমন ঘটনা এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঘটনা খুব একটা দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদরা। একইভাবে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, সাইবার হামলার যুগে তাদের মত সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বপালন আসলেই ঝুঁকির মুখে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে চুপ থাকা উচিৎ ছিলো কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের ভাষা সংযত হওয়া উচিৎ ছিলো।

তবে, এ বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোন মন্তব্য করেননি ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প। পদত্যাগ করা রাষ্ট্রদূত ডারোচের , ইভাঙ্কার সঙ্গে বাণিজ্য বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তাতে যোগ দেননি ডারোচ।