SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ১১-০৭-২০১৯ ১৬:২৪:১১

ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ জাহাজকে বাধা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ

iran-11july2

ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ জাহাজকে বাধা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরে এ ঘটনা ঘটে। তেহরানের এমন আচরণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়েছে লন্ডন। তবে তাদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। এর আগে, ইরানের সুপারট্যাংকার জব্দের জন্য ব্রিটেনকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। এরমধ্যেই, তেহরানের ওপর শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা জোরালো করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর জেরে বুধবার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক ডাকে যুক্তরাষ্ট্র। বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু চুক্তিকে কাজে লাগিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলে ওয়াশিংটন। সেইসঙ্গে পরমাণু উন্নয়ন কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, সমঝোতার লক্ষ্যে শর্তহীন আলোচনায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করারও প্রস্তাব দেয় ওয়াশিংটন। জবাবে '‌পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি' অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা নিষিদ্ধ নয় বলে জানায় ইরান।

ইরানের পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত মিখাইল উলয়ানভ। এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের ডাকা বৈঠককে অদ্ভুত বলেও আখ্যা দেন তিনি। একই অভিমত ব্যক্ত করেছে চীনও।

ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে গিয়ে সেই চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক ডাকা অযৌক্তিক। একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন অধিকাংশ প্রতিনিধি। একইসঙ্গে, চুক্তির শর্ত থেকে ইরানের সরে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা।

এরমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইট বার্তায় বলেন, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং ওবামা প্রশাসনের ১ হাজার ৫শ' কোটি ডলারের চুক্তি লঙ্ঘন কোরে দীর্ঘদিন ধরে ইউরিনিয়াম সমৃদ্ধ করে আসছে তেহরান। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে জানিয়ে, শিগগিরই দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরো জোরালো করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর আগে, রুহানি প্রশাসনকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি আমরা। তারা বর্তমানে খুব খারাপ কাজ করে যাচ্ছে। সতর্ক হওয়াই তাদের জন্য উত্তম।

দু'পক্ষের বাকবিতণ্ডার মধ্যেই, চুক্তি রক্ষায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি। আলোচনার জন্য কূটনৈতিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। চুক্তি রক্ষায় ফরাসি আহ্বানের জবাবে ইরান জানায়, ফলাফল পেলেই কেবল চুক্তিতে ফিরবে তেহরান। এদিন, এক সপ্তাহ আগে, জিব্রাল্টার প্রণালী থেকে ইরানের সুপারট্যাংকার জব্দের জেরে ব্রিটেন কড়া হুঁশিয়ারি দেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

হাসান রুহানি বলেন,  দখলদার ব্রিটেন সরকার অবৈধভাবে জিব্রাল্টার প্রণালীতে অবস্থান করছে। তাদের আচরণে স্প্যানিশরাও যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। ব্রিটেনকে বলছি আমাদের ট্যাংকার আটকের ফলাফল ভয়াবহ হবে। সবার উচিৎ জ্বলানি পরিবহনের রুট নিরাপদ রাখা। ব্রিটেন প্রথম দেশ যারা সমুদ্রে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। এরজন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

এরমধ্যেই, ইরানের কয়েকটি সশস্ত্রনৌযান হরমুজ প্রণালী থেকে ব্রিটেনের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকের চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে লন্ডন। তবে তাদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইরান।