SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২০-০৬-২০১৯ ১১:২৪:৩১

শরণার্থী জীবন থেকে মুক্তি চান রোহিঙ্গারা

rohinga-repat

শরণার্থী জীবন থেকে মুক্তি চান মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। একই সাথে চান জাতিগত স্বীকৃতি আর নাগরিক অধিকার। এদিকে রোহিঙ্গাদের কারণে আর্থসামাজিক, অর্থনৈতিক, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ নানাভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারাও চান, দ্রুত যাতে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়।  প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখবে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক।

১৯৯১ থেকে ২০১৯ সাল, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বারবার পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গারা। বিশেষ করে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর ভয়াবহ নির্যাতনে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয় ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। নতুন পুরাতন মিলে এখন ১১ লাখ ছাড়িয়েছে।

এসব রোহিঙ্গা এখন স্বদেশে ফিরতে চান। তবে জাতিগত স্বীকৃতি ও নাগরিক অধিকারের মর্যাদা নিয়ে। তারা চান দীর্ঘ ২৮ বছরের শরণার্থী জীবন থেকে মুক্তি।

দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গাদের কারণে নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কক্সবাজারের স্থানীয়রা। তারাও চান, দ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

দ্রুত সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তরান্বিত করার জন্য মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের এ নেতা। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটি সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখুক, পাশাপাশি অন্য সেক্টরকেও এগিয়ে আসতে হবে।  

জেলা প্রশাসক মনে করছেন, আগামী জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখবে। জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সামনে চীন সফরে যাচ্ছেন। আমরা আশা করছি সকল আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশ্ব মানবতার লঙ্ঘনের পাশে থাকবে।

১৯৯১ সালে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা আসা শুরু হয়। যার মধ্যে ২০০৫ সালে সবশেষ প্রত্যাবাসন হলেও তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। এরপর কয়েকদফা বৈঠকের পরও এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কোন কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।