SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২০-০৬-২০১৯ ০৯:০২:২২

লালমনিরহাটে পানিবন্দি প্রায় ৫ হাজার মানুষ

lalmoni-wlog

উজানে ভারতের সিকিমে প্রবল বর্ষণে তিস্তার পানি প্রবাহ বাড়ায় ভাটিতে লালমনিরহাটের তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও দ্বীপচর প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১২টি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে ভুট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় অপরিপক্ব ভুট্টা তুলে রোদে শুকানো হচ্ছে। একই অবস্থা বাদাম, আলু ও বোরো বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলের।

ভারতের সিকিমের উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে বেড়ে গেছে উজানে তিস্তার প্রবাহ। এতে লালমনিরহাটে তিস্তার পানি ঢুকে পড়েছে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও দ্বীপচরে। পানির চাপ সামলাতে খুলে দেয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারেজের গেট। এতে সদরের খুনিয়াগাছ, আদিতমারীর মহিষখোচা,পাটগ্রামের দহগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী, সিন্দুর্নাসহ ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। মৌসুমের শুরুতেই ফসলের ক্ষতিতে দিশেহারা কৃষক।

বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটের পাশাপাশি পানি ঢুকে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। কোমর সমান পানি পেরিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ঝুঁকি এড়াতে নদী তীরবর্তী ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ করায় ব্যহত হচ্ছে পাঠদান।

পানিবন্দি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। আর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে বীজতলা সরবরাহসহ আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। একজন স্বাস্থ্যকর্মী জানান, পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট দেয়া থেকে শুরু করে কোন এলাকা প্লাবিত হয় কিনা তা খেয়াল রাখছেন তারা। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, 'কিছু মানুষ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিশেষ করে ভুট্টা ও বাদাম। এই ক্ষতি নিরূপণ করার চেষ্টা করছি।'

তিস্তা নদী তীরবর্তী লালমনিরহাটের ২০টি গ্রামে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাদের জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি।