SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১৮-০৬-২০১৯ ১২:৩০:৪০

৩ বছর ধরে বন্ধুর মেয়েকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১

somoytv

কুড়িগ্রামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মৌখিকভাবে সাজানো বিয়ে করে ৩ বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে মকবুল হোসেনকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার সাব-রেজিস্টারের অফিসের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের একটি দল। পরে মকবুলকে কচাকাঁটা থানায় সোপর্দ করা হয়।

এদিকে এদিন রাতে ধর্ষিতা বাদী হয়ে মকবুল হোসেনসহ ২ জনকে আসামিকে করে আরো অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
 
মঙ্গলবার (১৮ জুন) ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম জেলা শহরের জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কচাকাঁটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফারুক খলিল।
  
 গ্রেফতারকৃত মকবুল হোসেন ভূরুঙ্গামারীর বলদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কেদার গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছ প্রধানের পুত্র এবং ২ সন্তানের জনক। আর পূর্ব কেদার গ্রামটি কচাকাঁটা পুলিশ থানার অধিনস্থ।
 
পুলিশ এবং ধর্ষিতার বক্তব্যে জানা গেছে, একই গ্রামের অধিবাসী এবং পিতার বন্ধু হওয়ার সুবাদে মকবুল হোসেন ওই ছাত্রীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতো। দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। এ অবস্থায় ব্যাপারীটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে মকবুল হোসেন তার স্ত্রী মুক্তা বেগম ওই ছাত্রীকে সাথে নিয়ে নাগেশ্বরী উপজেলার সাপখাওয়া গ্রামে অবস্থিত শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায়। 

এখানে স্ত্রী মুক্তা বেগমের সহযোগিতায় জোরপূর্বক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে মকবুল হোসেন। এ সময় ছাত্রীটি কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে কুড়িগ্রাম জেলা শহরে নিয়ে এসে মৌখিকভাবে সাজানো বিয়ে করে। এরপর থেকে ছাত্রীর পরিবারের অগোচরে ৩ বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছে। প্রথম দিকে সহযোগিতা করলেও এক সময় বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠে মকবুলের স্ত্রী মুক্তা বেগম।

গত বুধবার (১২ জুন) সকাল ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে পার্শ্ববর্তী ভ্যান চালক শামছুলের বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে ছাত্রীর সাথে অবৈধ কাজে লিপ্ত হয় ধর্ষক মুকবুল। এ সময় মকবুলের স্ত্রী মুক্তা বেগম এসে তাদেরকে হাতেনাতে আটক করে মারধর করতে থাকে। এ সময় আনছার আলীর পুত্র মিন্টুসহ কয়েকজন গ্রামবাসী তাদের উদ্ধার করলে সুযোগ বুঝে মকবুল সেখান থেকে পালিয়ে যায়। 

এরপর ছাত্রীটির নামে দেড় বিঘা জমি লিখে দেয়াসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় মকবুল হোসেন। 
     
এ প্রসঙ্গে কচাকাঁটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফারুক খলিল জানান, ছাত্রীটি নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তদন্তের পাশাপাশি অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।