SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ২৫-০৫-২০১৯ ১৭:৩৩:১৮

থেরেসার মে'র জন্য খারাপ লাগছে: ট্রাম্প

may-reax-4pm

ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের পদত্যাগের ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মনে করছেন বিশ্ব নেতারা। মে'কে একজন ভালো মানুষ হিসেবে অভিহিত করে সরকার প্রধানের পদ থেকে তার সরে দাঁড়ানোয় সমবেদনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়াও দুঃখ প্রকাশ করেন ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানিসহ অন্যান্য দেশেরও শীর্ষ নেতারা। এদিকে, কে হবেন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, তা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা।

ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে অপারগ হয়ে শেষে পদত্যাগই করলেন থেরেসা মে। আগামী ৭ জুন কনজারভেটিভ দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন তিনি। তার পদ ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

তিনি একাই যুদ্ধ করে গেছেন। তিনি তো যেতে চাননি, ব্রেক্সিটও তিনি চাননি। আমরাই চেয়েছি। তিনি তা সফল করার চেষ্টা করেছেন, পারেননি। তবে তার লড়াইকে শ্রদ্ধা করতেই হয়

মে কি কোনদিন ব্যবসা করেছেন? তিনি ব্যবসার কি বোঝেন? চুক্তিতে কিভাবে সব পক্ষকে রাজি করাতে হয়, এটা তিনি জানবেন কি করে? ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন তার কাজ না, এটা বুঝতে পেরেই তিনি পদ ছেড়েছেন।

মের পদত্যাগের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্সসহ আরও কয়েক দেশের নেতারা।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'পুরো শাসনামলেই অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। বাধ্য হয়েই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মে। তবে এবার ব্রেক্সিট বিষয়ে ইতিবাচক কিছু হবে বলেই আশা রাখছি।'

লে পেন বলেন, 'ব্রিটিশরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে চায়। তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতেই হবে। আজ মে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন, নিজ দেশের নাগরিকের ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যেই তা করেছেন। ব্রিটিশরা ব্রেক্সিট চায়, সে সুযোগ তাদের দিতেই হবে।'

থেরেসা মের পদত্যাগের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ইইউ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সঙ্গে এখন পর্যন্ত সমঝোতার বিষয়ে সম্মত হতে পারেনি। দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই সমর্থন অর্জন করতে হবে, ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে হবে। যদিও বিষয়টি এখন আরও অনেক বেশি কঠিন হবে।

মে'র পদত্যাগের ঘোষণায় সমবেদনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি বলেন, মে তার পুরো শাসনামলে ব্রিটিশ নাগরিকদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে গেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'থেরেসার জন্য খারাপ লাগছে। তিনি একজন ভালো মানুষ, পরিশ্রমী এবং সাহসী। তার সিদ্ধান্ত সবাইকে অবাক করেছে। শেষ পর্যন্ত নিজের দেশের ভালোর কথা ভেবে গেছেন তিনি এবং একই ভাবনা থেকে পদত্যাগও করলেন।'

এদিকে, থেরেসা মের পদত্যাগের পর এবার দেশটির রাজনীতি কোন দিকে মোড় নিবে, তা দেখার অপেক্ষায় মুখিয়ে আছেন সবাই। ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া নিয়ে তাড়াগুড়া থাকায় অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নতুন নেতা নির্বাচনের কাজ শুরু করতে পারে কনজারভেটিভ পার্টি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এরই মধ্যে উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি নাম। এর মধ্যে, রয়েছেন জেরেমি হান্ট, ডোমেনিকান রব, মাইকেল গভ ও আন্দ্রে লিডসমের মতো নেতারা। এছাড়া এই তালিকায় রয়েছেন দেশটির বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ জাভিদও। মের পদত্যাগের পর তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। তিনি নির্বাচিত হলে প্রথমবারের মতো কোন মুসলিম প্রধানমন্ত্রী পাবে যুক্তরাজ্য।