SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মুক্তকথা

আপডেট- ২২-০৫-২০১৯ ২১:৫৪:৩৯

চুমুক দেব বিশ্বকাপে

mondip-1

বিশ্বকাপের লাল-সবুজ জার্সি অর্ডার দেয়া শেষ। ফিক্সচারে ভরে গেছে মেসেঞ্জার ইনবক্স। সেই সাথে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সাকিব ফিরে পেয়েছে তার হারানো মুকুট। অনিল কুম্বলে, রমিজ রাজা, রবী শাস্ত্রী, আকাশ চোপড়ার মতো বোদ্ধারা আস্থা রাখছেন টাইগারে। তাহলে আর শুভ কাজে দেরি কেন! সাহস করেই ফেললাম। স্বপ্ন দেখছি বিশ্বকাপ জয়ের। এবারই।

কেউ কেউ এই লেখা পড়তে পড়তেই বলবেন হয়তো, একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না? এটা যদি সেই শুরুর বিশ্বকাপের ১৯৭৫ সাল হতো, তবে মাথা নুইয়ে অবশ্যই মেনে নিতাম। কিন্তু সালটা যে ২০১৯। বদলে গেছে পুরো বিশ্ব। বদলে গেছে বাংলাদেশ। অন্য হুংকারে গর্জে উঠেছে টাইগাররা।

তবে অহেতুক আবেগে স্বপ্ন দেখছি না। দাঁড় করিয়েছি বেশ কিছু যুক্তি, যা স্বপ্নের শিশুটাকে হাঁটতে শেখাকে পারবে।

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল কোনটা? উত্তরটা বাংলাদেশ। বিশ্ব ক্রিকেটের বহু স্তম্ভের বিদায় দেখেছে গত কয়েক বছর। অপেক্ষাকৃত তরুণ সব দলের মাঝে ‘এই সেদিন’ খেলা শুরু করা টাইগাররাই অভিজ্ঞতায় এগিয়ে।

অধিনায়ক মাশরাফির সাফল্যের হারটা প্রায় ৫৯ শতাংশ, যা পারেন নি বাংলদেশের কোনো কাণ্ডারি।

এখন তো বলবেন, অধিনায়ক দিয়ে কী হবে? খেলা তো পুরো দলের। তাহলে জানিয়ে রাখি। ১৯৮৩ সালের আগ্রাসী কপিল দেব, ৯২ এর পরিশ্রমী ইমরান খান, ৯৬ এর অতি আত্মবিশ্বাসী রানাতুঙ্গা.... কাপ ছুঁয়ে দেখায় তাদের অবদান স্বীকার করে পুরো দল কিংবা জাতি। সে বিচারে মাশরাফি তাদের সবার তুলনায় বড় মাপের যোদ্ধা। অসংখ্য অস্ত্রোপচারের ক্ষত বয়ে নিয়ে লড়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। দলে একজন মাশরাফি মানে আত্মবিশ্বাস আকাশ ছোঁয়া।

বললেই কি আর কাপ ছোঁয়া যায়? ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা পারলো না, আর আমরা? কে পারলো না সে হিসেব করলে স্বপ্ন দেখাই বন্ধ করে দিতে হবে। বরং, উৎসাহ পাই ১৯৮৩ এর ভারত আর ১৯৯৬ এর শ্রীলঙ্কাকে দেখে। পাটিগণিতের তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে ওঠার মতো পিচ্ছিল ছিল সে সাফল্যের পথ। তবে, আমরা কেন না?

ইংলিশ কন্ডিশন নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা তো ছিলই। তবে আইরিশ মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতে সে চিন্তাও অনেকটা দূর হয়েছে। সেই সাথে আন্তর্জাতিক সিরিজে শিরোপা তোলার অভ্যাসটাও শুরু হলো।

ব্যাটিং নিয়ে নির্ভার থাকতেই পারে বাংলাদেশ। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে গেছে সৌম্য,তামিম, লিটন, মোসাদ্দেক সহ কম-বেশি সবাই। তবে, সাব্বিরকে নিয়ে চিন্তাটা থাকছেই।

পেস বোলিংটা দুশ্চিন্তার বড় জায়গা হতে পারে। তবে অধিনায়ক নিজে ফর্মে আছে। ফর্ম ফিরে পেয়েছে মোস্তাফিজ। শুরুর গল্পটা বেশ ভালোই রাহির। একটু আগে ফেসবুকে আলাপ হচ্ছিল বন্ধু রুবেল হোসেনের সঙ্গে। কাপের স্বপ্নে সৃষ্টিকর্তার ওপর আস্থা রাখলো সে। তাকেও জ্বলে উঠতে হবে প্রয়োজনের মুহূর্তে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাঁচ স্তম্ভ আশা যোগাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। মাশরাফির সম্পর্কে তো বললাম। সাকিবের কথা তো আর আমার লিখে বোঝাতে হবে না। পুরো বিশ্ব জানে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে। তামিম, মুশফিক, রিয়াদ টাইগারদের হয়ে হেঁটেছেন বহু পথ। বিশ্বকাপে রিয়াদের ব্যাট অন্য দাপটে কথা বলেছে এতদিন। এবারও ব্যতিক্রম হবে না বলেই মানি।

সব কথার শেষ কথা, বিশ্বকাপটা ওডিআই ফরম্যাটের; টেস্ট কিংবা টি-টুয়েন্টি না। আর ওডিআই মানেই অন্য বাংলাদেশ। ওডিআই মানেই আগ্রাসী টাইগারেরা।

একসময় এ স্বপ্ন দেখার সাহসও ছিল না। মনে পড়ে সেসব দিন? তখন ক্লাস টু কিংবা থ্রি তে পড়ি। বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে তখন ক্রিকেট খেলা হতো। এক টুর্নামেন্ট শুরু হলো। বাংলাদেশের জাতীয় দল, আর এশিয়ার পরাশক্তিদের ‘এ’ দল।

ওই সময় ভেবেছিলাম, আমাদের জন্য বুঝি ‘এ’ দলের বিপক্ষে খেলাটাই নিয়ম।

আর এক এশিয়া কাপে আতহার ভাইকে (আতহার আলী খান) দেখেছিলাম লড়াকু এক ইনিংস খেলতে। পুরো খেলায় বলার মতো আর কিছুই ছিল না বাংলাদেশের ঝুলিতে!

বেশি দিন আগে না। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছিলেন, ‘অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর সঙ্গে জিততে চাই, আর বড় দলগুলোর সাথে ফাইট দিতে চাই।’

এখন আমরা নতুন বাংলাদেশ। আমাদের জ্বলে ওঠার দিন কেউ আমাদের নেভাতে পারবে না। বরং সে আগুনে জ্বলে ছাড়খার হতে পারে যে কেউ।

আর লাল-সবুজের ইতিহাস বিজয়ের ইতিহাস, তা সে খেলার মাঠেই হোক আর যুদ্ধের ময়দানেই হোক।

কোনো দল বিশ্বকাপ জেতে না। বিশ্বকাপ নিজে যোগ্য হাতে নিজেকে সমর্পণ করে। আমরা আমাদের হাতটা যোগ্য করে তুলেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণেই মিলবে প্রেরণা:

                    ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’

তবুও ক্রিকেট অনিশ্চয়তার স্বর্গরাজ্য। যদি কাপ জিততেই না পারি, তাহলে সমালোচনা করবেন মন ভরে। বাধা নেই। আর যদি, স্বপ্নময় বিশ্বকাপ ধরা দেয় কাদামাটি মাখা এ বাঙালির হাতে, তাহলে একটাই কথা বলবো....

                  ‘তখন আমায় নাই বা মনে রাখলে’

লেখক:  মনদীপ ঘরাই, সাবেক ক্রীড়া সাংবাদিক ও বর্তমানে সিনিয়র সহকারী সচিব।

mon62elite@gmail.com