SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ১৯-০৫-২০১৯ ১৬:৫২:৩৩

অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে

austria-elec1

অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থী জোট জয়ের দ্বারপ্রান্তে। চূড়ান্ত ফলাফল জানতে ভোট গণনা এখনও চলছে। তবে শনিবার রাতে নির্বাচনের আংশিক ফলাফল প্রকাশ হলে টানা দ্বিতীয়বার মরিসনের জয়ের খবর সামনে আসে। প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এ জয়কে 'অবিশ্বাস্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন। আগামী তিন বছরে দেশকে আরও এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এদিকে, বিরোধীদল লেবারপার্টির নেতা বিল শর্টেন পরাজয় মেনে নিয়ে দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন

অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপগুলোতে এগিয়ে ছিল বিরোধীদল লেবার পার্টি। ধারণা করা হচ্ছিল এবার দেশটিতে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু না, সব ধারণা ভুল প্রমাণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর লিবারেল ন্যাশনাল জোট ক্ষমতা ধরে রাখলো। অধিকাংশ আসনের ফল ঘোষণার পর সিডনিতে এক সমাবেশে এ জয়কে অবিশ্বাস্য বলে আখ্যা দেন অজি প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। আবারও প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

স্কট মরিসন বলেন, বসবাসের জন্য অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের মধ্যে সেরা একটি দেশ। আমরা এ স্বীকৃতি অর্জন করতে দীর্ঘ দিন চেষ্টা করে গেছি। যারা কঠোর পরিশ্রম করেন, যারা স্বপ্ন দেখেন, যারা চাকরি করেন, ব্যবস্যা করেন বা করতে চান, অবসর জীবনে যারা আছেন- তাদের প্রত্যেকের জন্যই আমরা কাজ করেছি। যার ফলশ্রুতিতে আজ জয় পেয়েছি।

এদিকে, মরিসনের জয়কে মেনে নিয়েছেন বিরোধী নেতা বিল শর্টেন। মেলবর্নে পরাজয় মেনে নিয়ে দলীয় প্রধানের পদ ছাড়েন তিনি। আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বে তার দল আগামীবার ঠিকই ক্ষমতায় আসবে।

বিল শর্টেন বলেন, জাতীয় স্বার্থেই আমি স্কট মরিসনকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমি পরাজয় মেনে নিয়েছি। প্রত্যাশা করি, আমাদের এ সুন্দর দেশের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে, মরিসনের হাত ধরে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি আমি এও প্রত্যাশা করি যে, আগামী নির্বাচনে লেবার পার্টি ঠিকই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে। আমরা অতীত পরিবর্তন করতে পারবো না ঠিকই কিন্তু ভবিষ্যত পরিবর্তন করার সামর্থ্য আমাদের আছে।

ভোটটাররা বলছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর রয়েছেন নানামুখী চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসী ইস্যু, জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে।

একজন বলেন, আমরা চাই নতুন প্রধানমন্ত্রী যেন জলবায়ু পরির্তন নিয়ে কাজ করেন এবং পরিবেশের বিষয়ে নজর দেন। এছাড়া শরণার্থীদের বিষয়ে নীতি গ্রহণ করা হবে এমনটাই চাই।

আরেকজন বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ববের মতো কেউ একজন দেশকে আগলে রাখবেন- এটাই এখন চাওয়া। তার নেতৃত্বের তুলনা হয় না।

শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোট শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। দেশটির ৪৬তম পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রায় এক কোটি ৬৪ লাখ ভোটার ভোট দেন। দেশটিতে সবার জন্যই ভোট দেয়া বাধ্যতামূলক, নয়তো গুণতে হয় জরিমানা। ভোট হয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ১৫১টি আসনে। এছাড়াও ভোট হয় সিনেটের ৭৬টির মধ্যে ৪০টি আসনে।