SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৯-০৫-২০১৯ ১৩:৪৫:৩৬

মাদক মামলায় দীর্ঘসূত্রিতা, কারাগারে বাড়ছে আসামির সংখ্যা

drug-court

নানা জটিলতার কারণে চট্টগ্রামে মাদক আইনে দায়েরকৃত মামলাগুলোর বিচারে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে। মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার কম হওয়ায় বাড়ছে মামলা জট। বর্তমানে এখানে বিচারাধীন ১৮ হাজার মামলার মধ্যে ৫ বছর বা তার আগের মামলা রয়েছে আড়াই হাজারের বেশি। মাদক আইনের মামলা দ্রত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের নিয়ম থাকলেও চট্টগ্রামে এখনও কোনো ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়নি। 

বৃহত্তর চট্টগ্রামকেন্দ্রিক মাদকের বিস্তার যেমন বাড়ছে, তেমনি বেড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানও। নগরীর ১৬টি এবং জেলার ১৬টি মিলিয়ে ৩২টি থানায় প্রতিদিন গড়ে ৬০টির বেশি মাদক আইনে মামলা হচ্ছে। কিন্তু সে অনুযায়ী মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না। আদালতের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ১১ হাজার ১৪৮টি। এর মধ্যে ৫ বছর আগে দায়েরকৃত ২ হাজার ৩৭৯টি মামলা এখনো বিচারাধীন।

সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আমেনা বেগম বলেন, যারা খুচরা ব্যবসায়ী তারা আসলে খুব দ্রুত জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসে। সরকারের কাছে পুলিশ বিভাগ থেকে প্রস্তাবনা ছিল, যাতে একটা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে সাজা যদি নিশ্চিত করা যায় দ্রুততার সাথে, তাহলে তখন তারা জেলে থাকবে, জামিন পাবে না, বাইরে এসে আবার মাদক ব্যবসা ঘটনা ঘটবে না।

একই অবস্থা জেলা দায়রা জজ আদালতেও। এখানে বর্তমানে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ৫ হাজার ২৯২টি। কিন্তু মাদক আইনে মামলা দ্রত নিষ্পত্তির জন্য মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮তে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি।

চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের পি পি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বলেন, মাদক দ্রব্যের জন্য আলাদা যে ট্রাইব্যুনালের কথা আইনে বলা আছে, সে ধরনের কোনো কোর্ট আজ পর্যন্ত চট্টগ্রামে হয় নি। অন্যান্য মামলার সাথে একসাথে হচ্ছে বলে মাদক মামলা সেইভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না।

মাদক দ্রব্য আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রতিটি মামলা ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়ার পাশাপাশি জটিলতার কারণে মাদক আইনের মামলাগুলোতে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হচ্ছে। 

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (মেট্রো) শামীম আহমেদ জানান, ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়ার কারণে মামলার স্বাক্ষীরা থাকে, অনেক সময় তারা বদলী হয়ে যায়, মারা যায়, যার ফলে নিয়মিত স্বাক্ষী হয় না, মামলার দীর্ঘসূত্রিতা বাড়তেই থাকে।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (জেলা) এ কে এম শাওকাত ইসলাম বলেন, মামলা নিষ্পত্তিতে ৫/১০ বছরও লাগে, এতো দিন তো আর মামলা ফেলে রাখা যায় না। জামিন পেয়ে যায়, জামিন পেয়ে আবার সেই ব্যবসা শুরু করে। এক একজন মাদক ব্যবসায়ীর নামে বিশটা পর্যন্ত মামলা থাকে, মামলা বিচারাধীন আছে, দেখা যায় তারা দেদারছে মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে।

জেলা ও নগরী মিলিয়ে বিভিন্ন থানায় মাদক আইনের আরো অন্তত সাড়ে চারশ মামলা তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। আর কারাগারে রয়েছে দেড় হাজারের বেশি মাদক আইনে গ্রেফতারকৃত আসামী।