SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মুক্তকথা

আপডেট- ২১-০৪-২০১৯ ১৯:০৯:৩৯

রক্তের রঙ টা কিন্তু একই

mon-12

ঘটনাগুলো সময় দেয় না। কাঁদতে দেয় না। কাঁদাতে দেয় না। স্তব্ধ করে দেয় শুধু।

হাজার কিলো দূরের বিস্ফোরণের স্প্লিন্টার  ক’জন টের পেলেন শরীরে? আমি সহ কেউ যে পায় নি, তা তো আলাদা করে কিছু বলার নেই। তাহলে বলছি কেন?

টিভিতে ব্রেকিং নিউজ দেখে কিংবা অনলাইনে শিরোনাম দেখে বুকটাতে যে আঘাত লাগলো, ওটা স্প্লিন্টারের। হয়তো দূরত্বের কারণে বেগ হারিয়েছে অনেকটা। তাই চিনচিনে ব্যথায় শেষ হয়েছে আপনার আক্রান্ত হওয়া। আর যারা ঘটনাস্থলে ছিলেন, তারা অলীক রেজিস্ট্রেশন টেবিলে নাম লেখাচ্ছেন নিহত, আহত আর নিরাপদের তালিকায়।

আমরা এখন আর মানুষ চিনি না। চিনতে শিখেছি সংখ্যা। আহত ১০০। নিহত ২০ কিংবা ৩০। প্রযুক্তির এই মাইক্রো, ন্যানোর জগতে মানুষ খুদে হতে হতে সংখ্যায় পরিণত হচ্ছে... দুর্ঘটনায়, হামলায়, হত্যায়।

প্রার্থনায় থাকা নিরস্ত্র মানুষ কার শত্রু হতে পারে? মানুষের। কারণ, যারা হত্যা করলো তারাও তো রক্ত- মাংসে মানুষ হিসেবেই দাবি করে!

জগতে নিজের প্রজাতিকে হত্যা করা প্রাণীর সংখ্যা কত? হাতে গোনা দু একটা উদাহরণ টানতে পারেন। বাদ বাকি লাখ লাখ উদাহরণ শুধু এক প্রজাতির। মানুষ।

নিউজিল্যান্ড থেকে শ্রীলঙ্কা। কোন ধর্মের কতজন মরেছে, সে হিসাবটা বাদ দিন। কতজন মানুষ মরলো সে হিসাবটাই তো এলোমেলো করে দেবে সবকিছু।

ধর্মীয় উৎসব আর প্রার্থনায় রক্তের দাগ লাগানো প্রাণীগুলোও কী মানুষ?

তবে তাই হোক। ওরা যদি মানুষ হয়, তাহলে সেই পরিচয়ে নিজেকে পরিচিত করতে চাই না। হয়ে যেতে চাই অনুভূতিশূন্য জড় পদার্থ। যার অনুভূতির কান্নাগুলো বিন্দু বিন্দু ঘাম হয়ে জমতে থাকবে সারা গায়। কিন্তু নড়াচড়ার বালাই থাকবে না।

দম আটকে আসে, যখন ভাবি আচমকাই প্রাণ হারানো মানুষগুলো হয়তো জানতেও পারলো না, কি কারণে থেমে যেতে হলো চিরতরে। আমরা জানছি, একেবারেই অকারণে। মানুষ হয়ে জন্মানোর কারণে। অন্য প্রাণী হলে হয়তো বেঁচেই যেত ওরা।

নিউজিল্যান্ড আর কলম্বোর মৃত মানুষগুলোর ছবি জুম করে দেখতে পারেন। আমার কাছে তো রক্তের রঙ টা একই মনে হলো।

আমি কি ভুল দেখলাম?

মানুষ হয়ে বাঁচার আশায়

মারছো মানুষ কোন কুয়াশায়?

ওরাও তো ভাই হৃদয় নিয়ে

জন্মেছিল তোমার মতো

আজকে ওরা সংখ্যা কেবল

আতঙ্কিত, হতাহত!

লেখক: মনদীপ ঘরাই, সহকারী সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ