SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১৬-০৪-২০১৯ ০৯:২৪:৫০

নুসরাত হত্যা: ৭০ টাকার কেরোসিন কেনে শাহাদাত

ff

ফেনীর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে নুসরাত জাহান রাফি হত্যার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম। রোববার (১৪ এপ্রিল) দেয়া জবানবন্দিতে সে জানায়,
পরিকল্পনা অনুযায়ী আগে থেকেই ৭০ টাকা দিয়ে সে এক লিটার কেরোসিন কিনে এনেছিল নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা করার জন্য।

এছাড়া এই মামলার আরেক আসামি নুরুদ্দিনও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

জবানবন্দিতে ওই দুই আসামি প্রায় একই ধরনের তথ্য দিয়ে জানিয়েছে। তারা জানায়, ৪ এপ্রিল কারাগারে গিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজের কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা ৫ এপ্রিল মাদ্রাসার পাশের পশ্চিম হোস্টেলে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে রাফিকে পুড়িয়ে মারার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পরদিন ৬ এপ্রিল তারা এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগে থেকেই কেরোসিন কিনে আনেন শাহাদাত। সে ৭০ টাকা দিয়ে এক লিটার কেরোসিন কিনে আনে।

জবানবন্দিতে শাহাদাত জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী পপির বান্ধবী কামরুন্নাহার মণিকে দুই হাজার টাকা দেয়া হয় বোরকা কেনার জন্য। সে তিনটি বোরকা এনে শাহাদাতকে দেয়। তিনটি হাতমোজাও সে সংগ্রহ করে। এগুলো সংগ্রহ করার পর তারা শেল্টার হাউসের (ঘটনাস্থল) তিন তলার ছাদে রেখে আসে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা শুরুর আগে তারা উম্মে সুলতানা পপিকে দিয়ে কৌশলে নুসরাতকে ছাদে নিয়ে আসে। এরপর নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

জবানবন্দিতে শাহাদাত হোসেন শামীম আরো জানায়, এ ঘটনার সময় নুরুদ্দিন ও হাফেজ আবদুল কাদেরসহ আরও পাঁচজন গেটে পাহারায় ছিল। নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর শামীম দৌড়ে নিচে নেমে উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যায়। বাইরে গিয়ে সে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে ফোনে বিষয়টি জানায়।

রুহুল আমিন বলেন, আমি জানি। তোমরা পালিয়ে যাও।

গত ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ রাফি।