SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৬-০৪-২০১৯ ০৫:১৮:৪৬

কারাগারে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা, সুস্থতায় নেই উদ্যোগ

jail-drug

কারাগারগুলোতে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে মাদক মামলার আসামি। কিন্তু তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় তেমন উদ্যোগ নেই কারাগারে। ফলে জামিনে বেরিয়েও নেশার টান ছাড়তে না পারায় প্রতিনিয়ত মাদকের আগুনে পুড়ছে দরিদ্র উত্তরের জনপদ রংপুরের একেকটি পরিবারের স্বপ্ন। তাদের আলোর পথ দেখাতে কারাগারগুলোতে সুচিকিৎসা ও কাউন্সিলিং দরকার বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

‘সঙ্গদোষের কারণেই আমি আবার মাদকের সঙ্গে মিশে গেছি।’ নেশায় জড়ানোর ইতিহাস জানাতে গিয়ে এভাবেই বলছিলেন অনেকের মতো বন্ধুমহলের আড্ডা থেকে এক সময় নেশার জগতে ডুবে যাওয়া মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। শেষ পর্যন্ত ঠিকানা হয় কারাগার। এরপর জামিনে মুক্তি পেলেও নেশা তাকে ছাড়েনি। বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা ভর্তি করান রংপুর নগরীর একটি বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে।

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় দেড় হাজার বন্দির মধ্যে অধিকাংশই মাদক সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি। কারাগারে এই বন্দিদের জন্য পৃথক ইউনিট থাকলেও সার্বক্ষণিক চিকিৎসক নেই। মানবাধিকার কর্মী ও চিকিৎসকরা বলছেন, মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে হলে কারাগারে চিকিৎসার বিকল্প নেই।

রংপুরের মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্বপ্নের পরিচালক গুলশান-আরা ইয়াসমীন বলেন, মাদক নিরাময়ের জন্য যে ইউনিট রয়েছে সেই ইউনিটের জন্য আলাদা জনবল দরকার। আমরা যদি বলি তিনি শোধনাগারে রয়েছেন, তবে তিনি একটা চিকিৎসা কেন্দ্রে রয়েছেন, বের হওয়ার পর তার ফলোআপ জোরদার করতে হবে।

রংপুরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. অমল চন্দ্র সাহা বলেন, আমি মনে করি জেলা কারাগারগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের জন্য কাউন্সিলিং সেন্টার থাকা উচিত।

জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও নেশার হাতছানি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দেয় না তাদের। ফলে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেও মাদক নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। মাদকাসক্তদের সুস্থ জীবনে ফেরাতে হলে তাদের সুচিকিৎসা ও কর্মসংস্থান দরকার বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের নামে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠাচ্ছি, তবে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কাজ করছে।

রংপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদ হোসেন বলেন, মাদকাসক্তদের জন্য প্রত্যেকটা কারাগারে আলাদা কিছু করা যায় কিনা তা নিয়ে সরকারের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা চলছে।

রংপুর বিভাগের আট কারাগারে ৫ হাজার ১৯৫ জন বন্দির মধ্যে প্রায় অর্ধেকই মাদক মামলার আসামি।