SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon অন্যান্য সময়

আপডেট- ১৫-০৪-২০১৯ ১৯:৫৩:১৫

প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকানে বাঙালি শেফ

french-cuisine-1-jpg-2

ফরাসি খাবারের অতুলনীয় স্বাদের সুনাম রয়েছে বিশ্বব্যাপী। প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকানে ফরাসি শেফের পাশাপাশি দেখা মিলবে বাঙালি শেফেরও। ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে এসব রেস্তোরায় ভিড় জমান ফরাসিরা। আর রেস্তোরার সত্ত্বাধিকারী বলেন, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার জুড়ি নেই বাঙালির। তাই ফরাসি শেফের চেয়ে বাঙালি শেফই তার পছন্দ।

ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী খাবারের জন্য ফরাসিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় প্যারিসের মনপাঁরনাস এলাকার লা লিংরে রেস্তোরা। এর খাবারের সুনামের প্রমাণ মিলবে খদ্দেরের ভিড় দেখেও।

রেস্তোরার রান্নাঘরে উঁকি দিলে চোখে পড়বে উনুনের ব্যস্ততা। ৫ বছর ধরে এ রেস্তোরায় রান্না করছেন বাংলাদেশের শামীম মিয়া ও কমল দাস। ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী সব খাবার, স্যামন মাছের সালাদ থেকে শুরু করে আপেলের তিরামিসু কী না তৈরি করছেন তারা!

লা লিংরে’র শেফ শামীম হুসেইন বলেন, যারা খেতে আসে তাদের মন মতো হতে গেলে তাদেরকে তাড়াতাড়ি খাবার দিতে হয় তার সাথে খাবারো সুস্বাদু করতে হবে। 

লা লিংরে’র শেফ নীল কমল দাস বলেন, আমারা যে পেশায় আছি আমি মনে করি এটা একটা সম্মানজনক পেশা।

দুপুরে দ্রুত খাওয়াদাওয়া সেরে কাজে ফেরার তাড়া থাকে। তাই দম ফেলার ফুরসত নেই শেফদেরও। খুব দ্রুত একেকটি কুইজিন তৈরি করছেন বাবুর্চিরা। আর রেঁস্তোরার মালিক স্বয়ং করছেন ওয়েটারের কাজ।

এই রেস্তোরার খাবারের স্বাদ পেতে ফরাসিরা ছুটে আসেন এখানে।

খেতে আসা লোকজন বলেন, আমি এখানে খেতে আসি কারণ এখানে কোন ফ্রিজ নেই। রান্না মাত্রই পরিবেশন হয়। খাবার অনেক মজা। 

আরেকজন বলেন, বন্ধুর কাছে এ দোকানের নাম অনেক শুনেছি তাই খেতে এসেছি। শুনেছি খাবারো অনেক সুস্বাদু।

রেস্তোরার সত্ত্বাধিকারী বললেন, বাঙালির পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার কোনো জুড়ি নেই। তাই খাবার ফরাসি হলেও, বাঙালি রাঁধুনি-ই তার প্রথম পছন্দ।

লা লিংরে’র সত্ত্বাধিকারী জন ব্যাপটিস্ট বেলকুরহ বলেন, আমার রাঁধুনিরা বাঙ্গালি হলে কি হবে ফ্রেন্স রান্না খুব ভালো পারে। কাজের জন্য তাদের যে নিষ্ঠা আন্তরিকতা আর প্রচেষ্টা রয়েছে এটা দেখে তাদের সাথে কাজ করতে এতো ভালো লাগে। 

বাঙালি ছেলেদের রান্নার এ গুণ দেশে কিছুটা অজানাই। আমাদের দেশে কীভাবে নেয়া হয় এ সম্মানজনক পেশাকে জানতে চাই তাদের কাছে।

লা লিংরে’র শেফ নীল কমল দাস বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য হলো সবসময় মহিলারা রান্না করে খাওয়ায়, তাই পুরুষরা রান্না করতে সংকোচ করে,তাই রান্না করা হয় না।

রেস্তরাঁর প্রতিটি খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা যেভাবে বজায় রাখা হয়, তা থেকে বাংলাদেশের শেখার আছে অনেক কিছু এমনটা মনে করেন গুণী শেফরা।