SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon অন্যান্য সময়

আপডেট- ২০-০৩-২০১৯ ০৮:৫৩:৫৪

দরবার শরিফের দানবাক্স পাহারায় সাপ!

snake

পৃথিবীতে কত আজব ঘটনা ঘটে। ঠিক এমনই আজব ঘটনা ঘটেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে আউলিয়াপুর গ্রামে। সেখানে বার আউলিয়ার দরবার শরিফের দানবাক্স পাহারা দিতে দেখা যাচ্ছে এক বিষধর সাপকে।  তবে সব সময় না, হঠাৎ হঠাৎ সাপটি দীর্ঘক্ষণ ধরে দানবাক্সে নিজেকে জড়িয়ে রাখে।

এমন দৃশ্য দেখে এলাকার অনেকেই মনে করছেন টাকা চুরি রোধে হয়তো অলৌকিকভাবে সাপটি এমনটি করছে। এর আগে ৩-৪ বার সেখান থেকে টাকা চুরি হওয়ার ধারণা থেকেই এলাকাবাসী এমনটা মনে করছেন।

সোমবার( ১৯ মার্চ) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাপটি তালাসহ দান বাক্সটি জড়িয়ে থাকে। এসময় কেউ দান বাক্সের দিকে এগিয়ে গেলে ছোবল মারার উদ্দেশে সাপটি ফণা তুলেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান গ্রামবাসী। মঙ্গলবারও( ১৯ মার্চ) উৎসুক গ্রামবাসী সাপটি দেখতে ভিড় জমান। তবে মঙ্গলবার সাপটিকে আর দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশেই বার আউলিয়ার দরবার শরীফ। প্রতিদিন এ পথে যাতায়াতকারীরা ছাড়াও স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ দরবারের দানবাক্সে অর্থ দান করেন। তবে একটি অসাধু চক্র গত ১ বছরে ৩ থেকে ৪ বার দরবারের দানবাক্সের তালার নকল চাবি তৈরি করে অর্থ চুরি করে। মাসখানেক আগে চুরি ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তালা মেরে তা ঝালাই করে দেন। এরপরও ওই অসাধু চক্রটি অর্থ চুরির ফন্দি করছে। সেই কারণেই হয়তো দানবাক্স পাহারা দিচ্ছে বিষধর সাপটি। স্থানীয়রা বিষয়টি অলৌকিক বলে মন্তব্য করছেন।

দরবার শরীফের জমি ওয়াকফ স্টেটের। ওয়াকফ স্টেটের মোতওয়াল্লির প্রতিনিধি মাও. হেলালুজ্জামান জানান, বাকেরগঞ্জ রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে ৫৬৩ বসর আগে দিল্লীর তৃতীয় মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে এ এলাকায় ১২ জন ওলি আউলিয়া ইসলাম প্রচারের জন্য আসেন। তারা এখানে থেকে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিতে থাকেন। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের শেষ দিকে অর্থাৎ দোল পূর্ণিমায় বার আউলিয়ার দরবার বাৎসরিক ৩দিন ব্যাপী ওরশ মাহফিলে স্থানীয় ভক্তসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্নস্থান থেকে আগত অগণিত মুরীদান, আশেকান, ভক্ত দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে আসছে।

তিনি জানান, কয়েক বছর ধরে স্থানীয় একটি চক্র দরবার শরীফের দানবাক্সের তালার নকল চাবি তৈরি করে অর্থ চুরি করে আসছে। গত ১ বছরে ৩ থেকে ৪ বার তারা অর্থ চুরি করে। সেই কারণেই হয়তো এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। যাতে ওই অসাধু চক্রটি আর অর্থ চুরির কথা চিন্তাও না করেন।