SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১৯-০৩-২০১৯ ০৮:৫৭:২৩

শরীয়তপুরে জেলেদের দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণের অভিযোগ

shari-vgf

শরীয়তপুরে জেলে পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি পরিবারকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে মাত্র ৩৩ থেকে ৩৪ কেজি করে। তার ওপর বিতরণ করা চাল দুর্গন্ধযুক্ত বলেও অভিযোগ করেছেন জেলেরা। অভিযোগের বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বীকার করলেও খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।

ইলিশ রক্ষায় মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের সহায়তায় প্রতি পরিবারকে ৪০ কেজি করে চাল দেয় সরকার। এ লক্ষ্যে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় খাদ্য গোডাউন থেকে বুধবার কেদাবপুর ইউনিয়নের জেলেদের চাল দেয়া শুরু হয়। তবে ৪০ কেজির পরিবর্তে দেয়া হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৪ কেজি চাল। বিতরণ করা চাল দুর্গন্ধযুক্ত এবং খাওয়ার উপযুক্ত নয় বলেও অভিযোগ জেলেদের।

জেলেরা জানান, চাল দিয়েছে ৩৩ কেজি। সরকারি চাল কেন কম দেয়া হলো! তিন চার বছর আগের চাল দেয়। সেই চাল দিয়ে ভাত খাওয়া যায় না।

ওজনে কম দেয়ার বিষয়টি স্থানীয় পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. মুন্নী খান স্বীকার করলেও অস্বীকার করেন ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ সানাউল্লাহ। মো মুন্নী খান বলেন, গোডাউনে যা দেয় বাইরে গিয়ে ওজন দিলে কম আসে। হাফেজ সানাউল্লাহ বলেন, বালতি দিয়ে মাপা হয় তাতে আধা কেজি এক কেজি কমতেই পারে।  

তবে দুর্গন্ধযুক্ত চালের বিষয়ে ভূমখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান সিরাজের কথায় উঠে আসে দুর্নীতির চিত্র। সরকারি কোন কাজে বরাদ্দ দেয়া চাল খাবারের উপযোগি না হওয়ায় কম টাকায় খাদ্য গুদামেই বিক্রি করে শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দিতে হয় ইউপি চেয়ারম্যানদের। সেই চালই সরকারি নতুন কোন বরাদ্দ এলে সরকারের কাছে আবারো বিক্রি করা হয় চড়া দামে। এভাবেই বছরের পর বছর খাদ্য গুদামে পড়ে থাকায় চাল দুর্গন্ধযুক্ত হয়।

শাজাহান শিরাজ বলেন, পচা চাল গোডাউনের দারোয়ানের কাছে বেঁচে দেয়। সরকার যখন চাল কেনার বরাদ্দ দেয়। তখন এদের কাছ থেকেই আবার পচা চাল কেনা হয়। পুরাতন চালই বছরের পর বছর থেকে যায়।

অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি উপজেলা খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা হালিমা খাতুন। তিনি বলেন, আমি কথা বলবো না। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আছে তার কাছে যান সুন্দর করে বুঝিয়ে দেব।

জেলায় সরকারিভাবে ১ হাজার ৯১২জন জেলে পরিবারকে ভিজিএফের চাল দেয়া হয়।