SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১৭-০৩-২০১৯ ০৫:১০:০২

খুলনার উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্কের নাম বেড়িবাঁধ

khulna

খুলনার উপকূলীয় এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম বেড়িবাঁধ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ওইসব এলাকার অধিকাংশ জায়গায় নদী ভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঘূর্ণিঝড় আইলার পর ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ সংস্কার করা হলেও সেগুলোও দীর্ঘমেয়াদী হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলবাসীর আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ জরুরি।


খুলনাঞ্চলে পাঁচটি উপকূলীয় এলাকার মধ্যে কয়রা ও দাকোপ উপজেলা চতুর্দিকে নদী বেষ্টিত। শুধুমাত্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ দুটি জনপদকে ঘিরে রেখেছে। দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়া বিরূপ হলে পানির চাপে কোথাও কোথাও ভেঙে পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে। উপকূলীয় জনপদের বেশ কিছু জায়গা রূপ নেয় স্থায়ী জলাবদ্ধতায়। এসব কারণে ধীরে ধীরে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা যেমন বাড়ছে, তেমনি মানুষ হারাচ্ছে কাজের সুযোগ।

এলাকাবাসীর দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঠিক তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারদের নিম্নমানের কাজের কারণে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ সত্ত্বেও বাঁধগুলো টেকসই রূপ পাচ্ছেনা।

এলাকাবাসী জানান, একমাস বা দেড় মাস বহাল থাকে, এরপরই ভেঙে যায়। পানি উন্নয়নের বোর্ডের কাছে আমরা মোবাইল ফোনে কল দিলে ওনারা কলও রিসিভ করেন না।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী ভাঙনের কারণে লোকালয়ে লবণ পানি ঢুকছে। এতে পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ছে উপকূলীয় এলাকার মানুষ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরী বলেন, সঠিকভাবে বাঁধ মেরামত না করার কারণে এই বাঁধগুলো সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে খুলনাঞ্চলের বাঁধ নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাঁধ প্রশস্ত করা হবে এবং উঁচু করা হবে। এছাড়া নদী রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলে ১৫ লাখ মানুষের বসবাস।