SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৬-০৩-২০১৯ ০৫:০৯:০৭

বাসের ফিটনেস না থাকলেও মিলছে সার্টিফিকেট

bus-fitness

ইন্ডিকেটর লাইট কিংবা লুকিং গ্লাস, কোন কিছুই নেই, তারপরও অদৃশ্য ইশারায় মিলছে বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট। এতে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। গাড়িতে এসব না থাকার জন্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ও বিআরটিএ উভয়ই দুষছেন গাড়ি মালিকদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসের গঠন ও অনুমোদন যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হলে কখনোই দুর্ঘটনা রোধ হবে না। 

কোনো সংকেত না দিয়েই চলতে চলতে হঠাৎ লেন পরিবর্তন। খোদ রাজধানীর সড়কেই নিয়ম অমান্য করে এভাবে চলছে দ্রুত গতির যানবাহন। কারো আবার সংকেত লাইটই নেই।

রাজধানীসহ দেশের সড়কে চলা অধিকাংশ বাসেই নেই ইন্ডিকেটর লাইট। কিছু বাসে থাকলেও তা বসানো হয়নি ঠিক জায়গায়। আবার কোনো বাসে নির্দিষ্টস্থানে থাকলেও তা বিকল হয়ে আছে বহুদিন ধরে। এতে পেছনে থাকা যানবাহনটি নির্দেশনা দেখতে না পারায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

এক বাস চালক জানান, ব্রেক লাইট, ইন্ডিকেটর থাকবে নিচে, দ্রুত গতিতে গাড়ি চললে যখন ব্রেক লাইট চোখে পড়বে, তখনই গাড়ি ব্রেক করা যাবে।

আরেকজন জানান, অনেক সময় ইন্ডিকেটর ব্যবহার করে না, ফলে দর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা তৈরি হয়। রাস্তায় চলতে গিয়ে ভেঙে যায় বলে বাস মালিকরা নির্দেশক বাতি লাগাতে চায় না বলে দাবি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের।

প্রস্তুতকারক এক প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, বাস মালিকরা বলেন তিনশো টাকা লাইট লাগাবো কি করে। আর লাগাইলে তো ভেঙে ফেলে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ত্রুটিপূর্ণ কোনো বাস সড়কে নামতে না দেয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। একইসঙ্গে বাস নির্মাণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়ার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।

বুয়েট সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ বলেন, প্রতিটি বাসে ২.১ ফিট উচ্চতায় ইন্ডিকেটর লাইট থাকা, ব্রেক, চাকা, লুকিং গ্লাস নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনা অনেক কমবে। এজন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে এবং নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে।

ত্রুটিপূর্ণ বাসের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিআরটিএ’র কর্মকর্তা দায়ী করছেন পরিবহন মালিকদের। বিআরটিএ রোড সেফটি পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই রব্বানী বলেন, আমরা কোনো ত্রুটিপূর্ণ বাসকে অনুমতি দেই না। অনুমোদনের পরে ত্রুটি হলে তার জন্য বাস মালিকরা দায়ী।

সরকারি হিসেব মতে, সারাদেশের সড়কে চলাচল করছে ৩৮ লাখ অনুমোদিত যানবাহন। যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখই ফিটনেসবিহীন।