SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১০-০২-২০১৯ ০৮:২৬:৩১

অবৈধ ইটভাটার দাপটে অসহায় মাদারীপুরবাসী

mada-bricks

মাদারীপুরে ঘন বসতির মধ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে ইটভাটা। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে ভাটার পাশের বাসিন্দারা, অন্যদিকে ফসলি জমি হারিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে কৃষক। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি নন ইটভাটার মালিকরা। অবশ্য, কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বিধি অনুযায়ী ফসলি জমি ও ঘন বসতি এলাকার ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ, মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্ব মহিষেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোলঘেঁষে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ইটভাটা। যেগুলোর অধিকাংশের নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। নিয়ম অনুযায়ী ১শ' ২০ ফুট চিমনি দিয়ে, কয়লা ব্যবহার করে হাওয়া ভাটায় ইট পোড়ানোর কথা। কিন্তু স্থানীয় গাছপালা কেটেই মাত্র ২০ ফুটের ড্রাম চিমনিতে ভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। যার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া নষ্ট করছে আশপাশের পরিবেশ। এসব ইটভাটার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করতেও ভয় পান এলাকাবাসী।  

তারা বলেন, ‘আমাদের কোন নারকেল হয় না, গাছপালা হয় না। বাচ্চাদের প্রাইমারি স্কুল আছে। তাদের অনেক সমস্যা হয়।’

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানোতে ক্ষুব্ধ পরিবেশবিদরা। পরিবেশবিদ ড. বশীর আহম্মদ বলেন, ‘যা কিছু ঘটছে স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগার ওপর দিয়ে। অচিরেই ইটভাটা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করা। সেই সঙ্গে কাঠ পোড়ানো বন্ধ করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা।’

অবশ্য, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আইন অমান্যকারী ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে ইটভাটা দেখে থাকে। এ কারণে ইটভাটাগুলো নিয়ম মেনে চলে কিনা তা দেখার জন্যে যৌথভাবে আমরা পদক্ষেপ নেবো।

মাদারীপুরের ৪টি উপজেলায় ৬৩টি ইটভাটার মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও অনুমোদনহীনভাবে চলছে ১৮টি ইটভাটা। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৩টি ইটভাটা রয়েছে।