SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon খেলার সময়

আপডেট- ৩০-০১-২০১৯ ১৪:২৪:১২

মাশরাফি একটু ‘ক্ষুব্ধই’

mash-sabbir

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের দলে রাখা হয়েছে বিতর্কিত ক্রিকেটার সাব্বির রহমানকে। যদিও তার ফর্ম একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। আর একারণেই ক্রিকেটাঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা। হচ্ছে সমালোচনাও। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, সাব্বিরকে কেন দলে নেয়া হল সেটি তিনি জানেন না। আর প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানিয়েছেন, অধিনায়ক মাশরাফির তীব্র ইচ্ছাতেই সাব্বিরকে দলে নিয়েছেন তারা।

অপরদিকে মাশরাফি বিপিএল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সাব্বির ইস্যুতে তার অবস্থান জানা যাচ্ছিল না। অবশেষে জানা গেছে অধিনায়কের বক্তব্য। জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মাশরাফির কথায় ক্ষোভ মিশে ছিল।

তিনি জানান, দল ঘোষণার পর সাব্বির ইস্যুতে প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে তার কথা হয়নি। বিসিবি সভাপতির সঙ্গে এ বিষয়ে কখনোই কথা বলেননি তিনি।

সাব্বিরকে নেওয়ার ব্যাপারে নির্বাচকদের ঠিক কী বলেছিলেন? জানতে চাইলে মাশরাফি বলেন, ‘আমার তো মতামত দেওয়ার চেয়ে বেশি কিছু করার নেই। অন্য অনেক দেশের নির্বাচক প্যানেলে অধিনায়ক থাকেন। আমাদের দেশে তা নেই। সাব্বিরকে আমি একক সিদ্ধান্তে দলে নিয়ে নেব, সে প্রশ্নই ওঠে না। আমি শুধু নিজের মতামত জানিয়েছিলাম।’

নিউজিল্যান্ড সিরিজের সূচি এবং স্কোয়াড

যে সাব্বিরকে নিয়ে এত সমালোচনা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি তেমন ভালো কিছুই করতে পারেননি। এরপরও তার ওপর এমন আস্থার কারণ জানাতে চাইলে মাশরাফি বলেন, ‘একটি পরিষ্কার কথা বলছি। সাব্বিরের ওপর আমি আস্থা দেখিয়েছি, এ কারণে না যে তাকে নিতেই হবে। ওকে না নিলে দল চলবে না। তাহলে সাব্বির যে কদিন ছিল না, তত দিন দল চলত না। আসলে নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য স্কোয়াডের ১৪ জনের নাম ঠিক হয়ে গেছে। এরপর ১৫ নম্বর সদস্যের জন্য যে নামগুলো দেখেছি, তখন মনে হয়েছে সাব্বিরকে নেওয়া যায়। কারণ বিশ্বকাপে সাত নম্বরে প্রতিপক্ষের সেরা পেস বোলারদের সামলানোর সামর্থ্য আমাদের অন্য ব্যাটসম্যানদের তুলনায় ওর বেশি। আমি তাই সামর্থ্যের কথা চিন্তা করে সাব্বিরের কথা বলেছি। যদি তা ভালো না লাগে, তাহলে নেবেন না। ও না থাকার পরও আমরা এশিয়া কাপ ফাইনাল খেলেছি; জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছি। সাব্বিরকে ছাড়া চলেছে না? চলেছে তো। আর এর আগেও তো অনেককে নেওয়ার মত দিয়েছি; কিন্তু নির্বাচকরা নেননি।’

উদাহরণ দিতে গিয়ে ম্যাশ টেনে আনেন আব্দুর রাজ্জাকের কথা। ‘যেমন আবদুর রাজ্জাক। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় আমরা সিনিয়র ক্রিকেটাররা সবাই ওর কথা বলেছি। সাকিব বলেছে, তামিম বলেছে, মুশফিক বলেছে, রিয়াদ বলেছে; আমি তো অধিনায়ক বলেছিই। কিন্তু নেওয়া হয় সাকলাইন সজীবকে। এটি তো ওর প্রতিও অবিচার। কারণ এক ম্যাচ খেলানোর পর বলা হলো, ও এই চাপে বোলিং করতে পারে না। তাহলে ওকে দলে নিয়েছেন কেন? আজ হাতুরাসিংহে কোচ নেই বলে আমি এটি বলতে পারছি। উনি থাকলে বলতে পারতাম না। অধিনায়ক হিসেবে এমন অনেককে অনেকবার চেয়েছি আমি। পাইনি।’

প্রধান নির্বাচকের মন্তব্যের পর নিষিদ্ধ খেলোয়াড় সাব্বিরকে দলে নেয়ার দায় সম্পূর্ণ মাশরাফির ওপর পড়েছে। তবে মাশরাফি দায় এড়িয়ে যাওয়ার সহজ রাস্তা বেছে নেননি। বরং নিজের কাঁধে দায় নিয়েও যেনো একটু খোঁচা দিয়ে রাখলেন।

‘নিষেধাজ্ঞা কমানো-বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বোর্ডের। ওখানে আমার কিছু করার নেই। আর দায়ের কথা বলছেন? দায় এড়ানো তো পৃথিবীর সবচেয়ে সহজতম কাজ। এটি ঠিক কি না, ভেবে দেখা দরকার। এখন সাব্বিরকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে দায় যখন আমার ওপর এসেছে, আমি দায় নিলাম। বাংলাদেশ ক্রিকেট আমার পারিবারিক দল না। আর সাব্বির আমার পারিবারিক মানুষও না; বরং রাজ ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে আমার কাছে মনে হয়, সাব্বিরের এই ঘটনায় কারো না কারো দায় নেওয়া উচিত। বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন যে জায়গায় গিয়েছে, তাতে এত দায়িত্বহীন হলে হবে না। যেহেতু আমার কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচক, আমি দায় নিতে রাজি।’

মানে নির্বাচক না হয়েও সাব্বিরকে নির্বাচন করেছেন? প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘অবশ্যই। যেহেতু আমার কথা এসেছে, দায় আমি নিচ্ছি। সমস্যা নেই। বাংলাদেশের ক্রিকেট এত বড় জায়গা, সেখানে কেউ দায় নেবেন না কেন? আমি নিলাম।’