SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১২-০১-২০১৯ ১৬:১১:৪৮

'শ্রমিক আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন রয়েছে'

third-power-jpg-1

পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা। এ আন্দোলনকে ঘিরে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানালেন তারা। শ্রমিক নেতারা বলেন, বহির্শক্তির ইন্ধন থাকলে তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। আর মানবাধিকার কর্মীদের মতে, আলোচনাতেই আসতে হবে সমাধান।


নতুন সরকারের শপথ নেয়ার দিন থেকেই বেতন বৈষম্য নিরসন ও সরকার ঘোষিত মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। এরই মধ্যে বেতন কাঠামোতে গ্রেটিং সমস্যা নিরসনে বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মালিক ও শ্রমিকদের ১০ জন প্রতিনিধিও রয়েছেন। এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে কমিটি। ফেব্রুয়ারিতেই সে অনুযায়ী বেতন পাবেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে গ্রেটিং সমস্যার কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুষিয়ে দেয়া হবে মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। তারপরও শ্রমিকদের রাজপথ না ছাড়ার পেছনে তৃতীয় কোনো শক্তির হাত থাকতে পারে বলে মনে করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার শেখ নাজমুল আলম বলেন, আন্দোলনের যে গতি প্রকৃতি দেখেছি তাতে এখন মনে হচ্ছে এই আন্দোলনের পিছনে কোন একটা শক্তি ইন্ধন দিচ্ছে এবং এটা কারা দিতে পারে আমরা বুঝতে পারছি। তারা ঘোলা পানিতে মাছ ধরার চেষ্টা করছে। আমরা তাদের ধরতে পারবো।

এদিকে শ্রমিক নেতারা বলছেন, অধিকার আদায়ের জন্য এই আন্দোলন। শিল্পের ধ্বংস চান না শ্রমিকরা। বহির্শক্তির হস্তক্ষেপ থাকলে তা খুঁজে বের করার দাবি তাদের।

 পোশাক শ্রমিক নেত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় আমরা শুনি ষড়যন্ত্র হচ্ছে, উসকানি দেওয়া হচ্ছে। এটা একটা পুরনো গল্প। শ্রমিকরা কখনই শিল্পের ক্ষতি চায় না। এখন অন্য কেউ যদি সুবিধা নিতে চায়, সেটা খুঁজে বের করবে সরকার।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সমস্যার সমাধান হওয়া উচিৎ আলোচনার মাধ্যমেই। ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।

মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, যেকোনো কাজেই যদি অন্যের উসকানিতে আমি সেটা করতে যাই, নিজের বোধ বুদ্ধির বিবেচনার বাইরে গিয়ে তখন সে কাজে কখনো সুফল পাওয়া যাবে না। সেজন্য উভয় পক্ষকে চিন্তা করতে হবে।'

পোশাক শিল্প রক্ষায় এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সব পক্ষকেই ধৈর্যশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।