SomoyNews.TV

স্বাস্থ্য

আপডেট- ১২-০১-২০১৯ ১৩:০৩:০৯

হাড় সুস্থ রাখুন

bones1

আপনার জয়েন্টে, হাতে-পায়ে বা কোমরে কোনও ক্রনিক ব্যথা আছে? নখ ভেঙে যায় অল্পতেই? দাঁতের সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ইদানীং আর আগের মতো মজবুত নেই? তা হলে সম্ভবত শরীর জানান দিচ্ছে যে আপনার হাড়ে ক্ষয় শুরু হয়ে গিয়েছে। বেশি দেরি না করে এখনই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। নিয়ম মেনে চললে রোগ সেরেও যাবে চটপট।

চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার মাধ্যমে অন্তত ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম শরীরে যাওয়া দরকার। দুধ, চিজ, পনির, ডিম, বাঁধাকপি, ঢ্যাঁড়শ, ব্রকোলি, বাদাম ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখতে পারলে খুব ভালো হয়।

ভিটামিন ডি-র জন্য আপনার কোনও বিশেষ সাপ্লিমেন্টের দরকার আছে কিনা, সেটা ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জেনে নেবেন। যেদিন ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খাবেন, সেদিন খাদ্যতালিকায় ঘি জাতীয় কোনও স্নেহপদার্থ অবশ্যই রাখবেন। ভিটামিন ডি ফ্যাট সলিউবল, সেদ্ধ বা স্যুপের সঙ্গে তা খেলে শরীরে আত্তীকরণ হবে না।

নারীদের হাড়ের স্বাস্থ্য খারাপ হতে আরম্ভ করে ৪০ পেরনোর পর থেকেই। ঠিক কী করলে হাড় সুস্থ থাকবে?
মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে সব মানুষেরই হাড়ের গঠন শুরু হয় গর্ভাবস্থা থেকে। সেই সময়ে মা কী খাবার খেয়েছেন, তা কতটা পুষ্টিকর ছিল, কতটা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনের দেয়া হয়েছে শরীরে, তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেছেন কিনা ইত্যাদি নানা বিষয়ের উপর নির্ভর করে সন্তানের হাড়ের গঠন কেমন হবে। গর্ভাবস্থায় মা সুস্থ থাকলে বাচ্চার স্কেলিটনের গঠনও ভালো হয়, পরবর্তীকালে শিশুটি মজবুত হাড়ের মালিক হয়।

ভালো হাড়ের গ্রোথ আপনার ৩০-৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত হবে। তাই একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে আরম্ভ করে সেই বয়স পর্যন্ত আপনি নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল কীভাবে রাখছেন, তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করে।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেরই স্বাস্থ্যসচেতন হওয়া উচিত। মেয়েদের আরও বেশি যত্নশীল হতেই হবে, খেয়াল রাখতে হবে যেন হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল থাকে। মেয়েদের ক্ষেত্রে ৩০-৩৫ বছরের পর থেকে হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়। মেনোপজের পর তার মাত্রাটা বাড়ে। তাই আগে থেকেই অনুসরণ করুন ডায়েট চার্ট, নিয়ম করে ব্যায়াম করুন। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে ক্ষয় শুরু হতেও সময় লাগবে।

কোন কোন খাবার খেলে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে?
সুষম, পুষ্টিকর খাবার খাওয়াটা জরুরি। প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় প্রচুর ফল, শাকসবজির পাশাপাশি যেন মিনারেল আর ক্যালসিয়াম থাকে, সেটা দেখতে হবে। এড়িয়ে চলুন ধূমপান, নরম পানীয় বেশি খেলেও হাড়ের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাধারণভাবে যারা মোটামুটি নিয়ম মেনে চলেন, খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ আছে, ব্যায়াম করেন, তাদের হাড়ের স্বাস্থ্যও বেশিদিন ভালো থাকে।

হাড়ের সমস্যার কি কোনও স্থায়ী সমাধান হয়? নাকি একবার শুরু হলে তা আর কখনও সারে না?
আমাদের শরীর কখন সবচেয়ে ভালো থাকে বলুন তো? যখন তা নিয়মিত যত্ন পায়। হাড়ের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। যত্নে রাখলে অবশ্যেই হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসবে আপনার যত্ন নেওয়ার পদ্ধতিতেও। ৪০ পেরনোর পর যতটা সম্ভব নিয়ম মেনে চলুন, খাওয়াদাওয়া, জীবনযাপন পদ্ধতি যতটা সাদাসিধে হয়, ততটাই ভালো। পারলে শারীরিক ও মানসিক স্ট্রেস থেকে দূরে থাকুন। নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে চিকিৎসকের তত্ত্ববধানে থাকুন। হাড় ক্ষয় একেবারে সেরে না গেলেও তার গতি কমানো অবশ্যই সম্ভব।