SomoyNews.TV

পশ্চিমবঙ্গ

আপডেট- ১১-০১-২০১৯ ১৬:৫৪:৫৬

নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতায় উত্তাল আসাম, ১৪৪ ধারা জারি

ind-11jan-jpg-1

নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতায় এখনো উত্তাল ভারতের আসাম এবং এর পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। চলমান বিক্ষোভ দমাতে আসামে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।

এরমধ্যেই বিতর্কিত ওই বিলটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করায়, রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় আটক করা হয়েছে আসামের তিন বুদ্ধিজীবীকে। আর বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস করা হলে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে আরো বড় ধরনের আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে বেশ কয়েকটি বিরোধী সংগঠন।

বিভিন্ন কারণে বেশ কয়েক বছর আগে নিজ দেশ আফগানিস্তান ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয় এই পরিবারটি। সম্প্রতি লোকসভায় নাগরিকত্ব বিল সংশোধন হওয়ার খবরে খুশি তারা। তাদের আশা চূড়ান্তভাবে রাজ্যসভায়ও পাস হবে বিলটি।

তারা জানান, ভারতে আসার পর থেকেই এক ধরণের অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলাম। কিন্তু এখন আশার আলো দেখতে পারছি। পরিবার নিয়ে এখানে স্থায়ীভাবে বাস করতে চাই।

কিন্তু নাগরিকত্ব বিলের সংশোধনীতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। তাদের অভিযোগ, নাগরিকত্ব বিলটি বাস্তবায়িত হলে নানা অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে ভারতের সাধারণ নাগরিকরা।

কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতা অখিল গগৈ বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, নাগরিকত্ব বিলে যে সংশোধনী আনা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে। তা না হলে আসামের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করবে।

অখিল গগৈ'র এমন বক্তব্যের পরই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় তাকেসহ আটক করা হয়েছে আসামের তিন বুদ্ধিজীবীকে। তাদেরকে দ্রুত মুক্তি না দেওয়া হয়ে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উলফা প্রধান পরেশ বড়ুয়া।

এদিকে বৃহস্পতিবারও দিনভর আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়সহ বিভিন্ন রাজ্যে নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে চলে প্রতিবাদ কর্মসূচী। এসময় প্রতিবাদকারীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভ দমাতে শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) আসামে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ অবস্থায় সেখানে সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। তবে ১৪৪ ধারা ভেঙে শুক্রবারও বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রতিবাদীরা।

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্য আন্দোলনে উত্তাল থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গের চিত্র পুরোই ভিন্ন। পুরো রাজ্যে আইনের সুপ্রভাব পড়বে বলে দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এর আগে প্রতিবেশী দেশ থেকে আশ্রয় নেওয়াদের সরকারি খাস জমি বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।