SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১২-০৯-২০১৮ ১৮:২০:৫৪

অনীহার কারণে বেগম জিয়াকে আদালতে হাজির করা যায়নি

khaleda-case-up

অনীহার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা যায়নি বলে প্রতিবেদন দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে জামিনের মেয়াদ বাড়ানো এবং আদালতের কার্যক্রম একমাস স্থগিত রাখার আবেদন জানান বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। আদালত জানতে চেয়েছেন, তিনি আদালতে না আসলে তার জামিনের মেয়াদ কেন বাড়ানো হবে। এনিয়ে প্রায় একঘণ্টা শুনানি শেষে মামলার বিচারকাজ আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবি করেন আদালত।


পুরানো কারাগারে স্থাপিত অস্থায়িত বিশেষ আদালতে বুধবার বেলা ১২ টা ২০ মিনিটে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে কারাকর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, অনিহার কারণে বেগম জিয়াকে আদালতে হাজির করা যায়নি।

এদিন জামিনের বাড়ানোর আবেদন করেন বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। একই সঙ্গে কারাগারে আদালত গঠন অবৈধ দাবি করে বিচারকাজ একমাস স্থগিত রাখার আবেদন জানান। আদালত বেগম জিয়ার আইনজীবীর কাছে জানতে চান, আসামি হাজির না হলে কোনো আইনের বলে তার জামিন বাড়ানো হবে। এনিয়ে প্রায় একঘণ্টা শুনানি শেষে, মামলার বিচারকাজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মূলতিব করা হয়, ঐদিন জামিনের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে শুনানি হবে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আইনসম্মত আদালত হয়নি এবং এখানে বিচারকার্যক্রম চলতে পারে না। আমরা যে আবেদন জানিয়েছি, এটার ওপরে মাননীয় বিচারক একটি ইতিবাচক আদেশ তিনি প্রদান করবেন।’

এদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, 'এক দিকে তারা বলছেন আদালত ঠিক না। আবার ‘ঠিক না’ আদালতের কাছে জামিনের মেয়াদ বর্ধিত করার জন্য আবেদন করছেন। আজ বেগম খালেদা জিয়া আসেন নাই। তিনি অনিচ্ছুক। আদালতে তিনি আসবেন না। এইভাবে জেল কর্তৃপক্ষ রিপোর্ট দিয়েছেন। মাননীয় আদালত বলেছেন, আপনারা জামিনও চাইবেন, আসামিও আসবে না। এমতাবস্থায় আমি কিভাবে জামিনে রাখবো। কিভাবে আমি আদালত পরিচালনা করবো। আসামির অনুপস্থিতিতে। সেই ব্যাপারের আইনগত ব্যাখ্যা আপনারা দেন।’

দুদকের আইনজীবী বলছেন, যেহেতু বেগম জিয়া আদালত আসতে চান না, সেহেতু তার অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ এগিয়ে নেয়া উচিৎ। বেগম জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, তাকে হাজির করার দায়িত্ব সরকারের।

দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে উপস্থিত না হোন, তাঁর মর্যাদা ও সম্মান অনুযায়ী তিনি যদি আদালতে আইনের ক্ষেত্রে সাহায্য না করেন, সেক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। মামলা যেভাবে নিষ্পত্তি হয় ঠিক সেভাবে নিষ্পত্তি করার জন্য আমরা আবেদন করেছি।’

বেগম জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘বেগম জিয়ার কাস্টডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে, কারাগার থেকে কি লিখে দিয়েছে আদালতকে এবং বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা না জানা পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না।’

বুধবারও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকে ঘিরে পুরানো কারাগার জুড়ে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।