SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ১২-০৯-২০১৮ ১৭:২৬:০০

ইদলিবে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি এড়ানোর আহ্বান গুতেরেসের

syr-12sept

সিরিয়ার ইদলিবে যেকোন মূল্যে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বিদ্রোহী দমনে বিকল্প উপায় খুঁজে বের করতে রাশিয়া, ইরান এবং তুরস্কের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। এর মধ্যেই, জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, অতীতের মতো সময়ক্ষেপণ না করে রাশিয়ার উচিত ইদলিবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখা। এদিকে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ দফতরে সিরিয়ার সবশেষ পরিস্থিতি এবং সেখানে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছেন রাশিয়া, ইরান এবং তুরস্কের প্রতিনিধিরা।

 

 

ইদলিব পুনরুদ্ধারে গত কয়েকদিন ধরে বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে রাশিয়া এবং সরকারি বাহিনীর বিমান হামলার মধ্যেই মঙ্গলবার, ইদলিব এবং পার্শ্ববর্তী হামা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা গোলা এবং মিসাইল হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। এতে, নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার খবর জানায় স্থানীয় গণমাধ্যম।

ইদলিবে যেকোন সময় বড় আকারের সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় এরইমধ্যে প্রদেশ ছেড়ে যেতে শুরু করেছে সেখানকার বহু বাসিন্দা। নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা এসব বাসিন্দা তুরস্ক সীমান্তে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের হিসেব মতে, ইদলিবে গত সপ্তাহে সরকারি ও মিত্র বাহিনীর বিমান হামলা শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দা জীবন বাঁচাতে নিজ ঘরবাড়ি ছেড়েছে।

একজন বলেন, ‘ইদলিবে এই মুহূর্তে কেবল হামলা, পাল্টা হামলা আর ধ্বংসযজ্ঞ চলছে, যা ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয়। খুবই অস্বাভাবিক একটি পরিস্থিতি বিরাজ করছে সেখানে।’

আরেকজন বলেন, ‘জীবন বাঁচাতে আমাদের পালানো ছাড়া কোন উপায় নেই। তারা যখন তখন বেসামরিক নাগরিকদের অবস্থানে হামলা চালাচ্ছে।’

এই বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় সামরিক অভিযানের পরিবর্তে বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করতে রাশিয়া, ইরান এবং তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সোমবার, নিউইয়র্কে সংস্থার সদর দফতরে সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, যেকোন মূল্যে ইদলিবে রক্তপাত বন্ধের পাশপাশি বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ইদলিবে যা হচ্ছে তা কোনভাবেই চলতে দেয়া যায় না। এটা সত্যি, সেখানে বিপুল সংখ্যক সন্ত্রাসী অবস্থান করছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের দমন করতে গিয়ে কোনভাবেই বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটতে দেয় যাবে না। এটা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’

অন্যদিকে, জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, ইদলিবে সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে রাশিয়ার কালক্ষেপণ অতীতের মতো আর সহ্য করবে না যুক্তরাষ্ট্র। আর তাই ইদলিবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এখনি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গুতেরেস বলেন, ‘সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েও তাতে ব্যর্থ হয়েছে রাশিয়া এবং ইরান। আমরা দেখেছি কিভাবে তারা যুদ্ধমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে নিজেরাই তা লঙ্ঘন করেছে। এ কারণেই বলবো, সিরিয়ার ভবিষ্যত নির্ধারণের ভার দেশটির জনগণের হাতেই ছেড়ে দেয়া হোক। আমাদের দায়িত্ব দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করা, শরণার্থীরা যাতে নিরাপদে নিজ ঘরবাড়িতে ফিরতে পররে তার সুযোগ তৈরি করে দেয়া।’

এদিকে, ইদলিবের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ দফতরে বৈঠক করেছে রাশিয়া, ইরান এবং তুরস্ক। এসময়, রুশ প্রতিনিধি আলেকজান্দার ল্যাভরেন্তিয়েভ বলেন, ইদলিবে মধ্যপন্থী বিদ্রোহীদের ভেতর থেকে সন্ত্রাসীদের আলাদা করার ক্ষেত্রে তুরস্ককে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে, অচিরেই ইদলিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।