SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ১২-০৯-২০১৮ ১৭:২২:৪৮

মিয়ারমারের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করার সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রের

rohingya-un

আন্তর্জাতিক মহলের অনুরোধ উপেক্ষা করায় মিয়ারমারের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রেণেতারা। এ জন্য তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও'র কাছে একটি চিঠিও দিয়েছেন। এদিকে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকার স্বাধীন সাংবাদিকতায় প্রতিনিয়ত বাধা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের কারাদণ্ডসহ ৫টি আলাদা ঘটনা পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায় সংস্থাটির মানবাধিকার কমিশন।

 

আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র সমালোচনা উপেক্ষা করে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে কারাগারে বন্দি রেখে সাজা কার্যকর করছে মিয়ানমার সরকার। রোহিঙ্গা নিধনের খবর সংগ্রহ করার দায়ে অস্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড না মেনে তাদের সাজা দেয়াকে মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ।

'অদৃশ্য সীমানা- মিয়ানমারে সাংবাদিকতার অপরাধে বিচার' শীর্ষক মঙ্গলবার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, কোন কারণ ছাড়াই অনেক সাংবাদিককে গ্রেফতার করা এবং বিচার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকার। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন সংস্থাটির মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে সাংবাদিকদের যেভাবে বিচার করা হচ্ছে তা পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। বিশেষ করে দেশটির কাচিন, সান ও রাখাইন রাজ্যে সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করে মিয়ানমার সরকার।’

জাতিসংঘের প্রতিবেদনটিতে অং সান সু চির সরকারের আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে সু চির নেতৃত্বে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি-এনএলডি ক্ষমতায় এলে দেশটিতে 'ভয় ও আনুকূল্য ছাড়া সাংবাদিকতা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া স্বাধীন সাংবাদিকতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের হিসেবে গত এক বছরে মিয়ানমারে অন্তত ২০ জন সাংবাদিকের বিচার করা হয়েছে বলেও এ সময় উল্লেখ করা হয়।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক কোনো চাপকেই পাত্তা না দেয়া মিয়ানমারের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। এজন্য দেশটির ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সংসদ সদস্যরা এক হয়েছেন। ছয়জন ডেমোক্র্যাট ও পাঁচজন রিপাবলিকান সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বরাবর দেয়া হয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে, তিনি যেন মিয়ানমারের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

এদিকে, থাইল্যান্ডের 'ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে' সম্প্রতি রোহিঙ্গা বিষয়ক এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আলোচনা শুরুর আগে পুলিশ সেখানে হাজির হয় এবং আলোচকদের রোহিঙ্গা বিষয়ে কোনো কথা না বলার নির্দেশ দেয়। অনুষ্ঠানটিতে আলোচক হিসেবে ছিলেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট তুন কিন।