SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১২-০৯-২০১৮ ১৪:২০:৩৭

মানচিত্র থেকে বিলীনের পথে নড়িয়া- জাজিরা উপজেলা

bd-shariyatpur

পদ্মার তীব্র স্রোতের ভাঙ্গনে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। গত দু’মাসে কয়েক হাজার পরিবার বেঁচে থাকার শেষ সম্বল টুকু হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিও নদীগর্ভে বিলীনের পথে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় ভাঙ্গন থামছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ভাঙ্গন ঠেকানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে দাবি করে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন বলছে ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের পুনর্বাসনে কাজ করছে সরকার।
 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পদ্মার পানির বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলায় ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত দুই মাসে গৃহহীন হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার পরিবার। এদের কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। ভাঙ্গনে ৫ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে।

এছাড়া নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জ বাজারের অধিকাংশ দোকান গিলে খেয়েছে সর্বনাশা পদ্মা নদী। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। এদিকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নদী গর্ভে বিলীনের ফলে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চিন্তিত এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর ধারণা, দ্রুত ভাঙ্গন ঠেকানো না গেলে নড়িয়া উপজেলার পাঁচগাও, চন্ডিপুর, নিকারী পাড়া ও শেখ কান্দিসহ ৫টি গ্রাম পুরোটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এছাড়া বসতভিটা ও দোকানপাট হারানো মানুষ বেকারত্ব দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে জাজিরা উপজেলার মুলফৎগঞ্জ ও তার আশপাশের এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। পাশাপাশি ২০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীনের ফলে অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এখানকার শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। তবে, ভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন এলাকাবাসী।

নদীতে ঘরবাড়ি হারানো কালিপদ শীল বলেন, চোখের সামনেই সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়িটুকু সরানোরও কোন সুযোগ পাইনি। শরীয়তপুরের নড়িয়ার ধামারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নিলু শামচুন্নাসার বলেন, প্রশাসন সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিলে ভাঙ্গন অনেকাংশে ঠেকানো সম্ভব হতো। আজ এখানকার মানুষ অসহায়ের মতো দিন কাটাচ্ছেন। পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছেন না। দ্রুত ভাঙ্গন ঠেকানো না গেলে নড়িয়া উপজেলার পাঁচগাও, চন্ডিপুর, নিকারী পাড়া ও শেখ কান্দিসহ ৫টি গ্রাম পুরোটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবার শঙ্কা রয়েছে।

শরীয়তপুরের নড়িয়ার কেদারপুর ইউনিয়নের (ইউপি) সদস্য মো. রফিক কাজী বলেন, আমরা ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সঠিক সময়ে ডিওলেটার দিয়েছিলাম। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি, ভাঙ্গন রোধে বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, অথচ এর আলোর মুখ দেখা যাচ্ছেনা। ফলে ভাঙ্গন এলাকার মানুষের দুঃখ কোনভাবেই ঘুচছেনা। আর অসহায় মানুষের পাশে সরকার না দাঁড়ালে ভাঙ্গন আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন জানান, ভাঙ্গন ঠেকাতে নদীতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জিওব্যাগ ফেলার কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চলছে।