SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ১১-০৯-২০১৮ ১৬:৫৪:১৬

যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ধেয়ে আসছে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী হারিকেন ফ্লোরেন্স

us-flo-up

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী হারিকেন ফ্লোরেন্স। আগামী বৃহস্পতিবার দেশটির নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনায় হারিকেনটি আঘাত হানবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই দেশটির নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যরোলাইনা, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনার ২৬টি কাউন্টির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি অফিস।

এছাড়া ১২ লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধসহ দুর্যোগের সময়ে টিকে থাকতে প্রোয়োজনীয় সবকিছু নিরাপদ স্থানে জমা রাখতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের চার অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা। প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবকরা। আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হারিকেন ফ্লোরেন্স।

স্থানী একজন বলেন, 'জানি না কি হতে চলেছে। কিন্তু হারিকেনটি বর্তমানে ক্যাটাগরি চারে রয়েছে। যেকোনো সময় ক্যাটাগরি পাঁচে রূপ নিতে পারে বলেও জানা গেছে। এমন অবস্থায় ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই সচেতনভাবে প্রত্যেকেরই প্রস্তুতি নেয়া উচিত।'

আগামী বৃহস্পতিবার দেশটির উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় হারিকেনটি আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার। এতে বন্যা ও ভূমিধ্বসের আশঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটি জানায়, হারিকেনটি প্রতি ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে এবং ক্রমেই তা আরও শক্তিশালী আর প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। এমন অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে ১২ লাখ বাসিন্দাকে দ্রুত সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আগাম সতর্কতা হিসেবে ইতোমধ্যেই উত্তর ক্যারোলাইনা, দক্ষিণ ক্যরোলাইনা, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে আড়াই লাখের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ওই চার অঙ্গরাজ্যে জরুরী অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া দক্ষিণ ক্যারোলাইনার ২৬টি কাউন্টির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

স্থানীয় একজন বলেন, আমরা পালাবো না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জানি, অনেক বড় দুর্যোগ আসছে। আর আমরা নিজ চোখে সে দুর্যোগটা দেখতে চাই। দেখা যাক কি হয়।

অপর একজন বলেন, আমি জানি না কি করবো। খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে। একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই আমাদের রক্ষা করতে পারেন। তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি এবং প্রয়োজনীয় সব পরিকল্পনা করে রেখেছি।

এদিকে হারিকেন ফ্লোরেন্সে নিরাপত্তাজনিত কারণে আগামী শুক্রবার মিসিসিপ্পির পূর্বনির্ধারিত র‌্যালি বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক টুইট বার্তায় আসন্ন দুযোর্গকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক হতে ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তৎপর হওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।

এর আগে, সবশেষ ১৯৮৯ সালে চার নম্বর ক্যাটাগরির হারিকেন হুগোর আঘাতে উত্তর ক্যারোলিনায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া অন্তত ৭০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ ধ্বংস হয়।