SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ১১-০৯-২০১৮ ১৬:২৬:৫২

‘আমার মা-বাবা আমাকে পুড়িয়ে দিয়েছে’

image-42911-1536647601

স্বামীকে ছেড়ে নতুন এক পুরুষসঙ্গী জুটিয়ে নিয়েছিলেন অরুণা (ছদ্ম নাম)। কিন্তু তাদের সম্পর্কে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিলো চার বছরের শিশুটি। অরুণা স্বামীকে ছেড়ে আসলেও বাচ্চাটিকে তো লালন-পালন তাকেই করতে হচ্ছে। এ নিয়ে খুবই অস্বস্তিতে ছিল অরুণা। এজন্যই শিশু মেয়েটিকে প্রায়ই নির্মমভাবে মারধর করতো। শুধু সে নয়, ওই অবুঝ শিশুটাকে মারধর করত তার নতুন প্রেমিকও। অথচ শিশু মেয়েটি ওই লোককেই ‘বাবা’ বলে ডাকতো।

 

ভারতে হায়দারাবাদ শহরের এ ঘটনা ঘটে।

গত সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) অরুণা ও তার প্রেমিক মিলে মেয়েটিকে কেবল মারধর করেই শেষ হননি; একটা লোহার চামচ গরম করে তার শরীরে ছ্যাকা দিতে থাকে। তখন শিশুটির কান্না শুনে স্থানীয়রা পুলিশকে জানায়। পুলিশ তখন শহরের মানবাধিকার কর্মী আচুথা রায়কে খবর দেয়। তিনি ও তার সঙ্গীরা এসে ওই মায়ের কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তারা বাচ্চাটিকে এক সরকারি শিশু আশ্রমে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এ ঘটনায় ওই নারী ও তার পার্টনারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

উদ্ধার হওয়ার পর শিশুটি মানবাধিকার কর্মীদের বলে, ‘আমার বাবা আমাকে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি তো তখন খাচ্ছিলাম।’ শিশুটির কথা শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি এনজিও কর্মীরা।

মেয়েটি আরো বলে, ‘বাবা প্রথমে আমাকে মারে। তারপর আমার গায়ে গরম চামচ লাগিয়ে দেয়।’

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ইদানিং ২৫ বছর বয়সী ওই নারীর সঙ্গে তার প্রেমিকের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না। এ নিয়ে হতাশায় ভুগছিলো সে। অরুণার ধারণা, মেয়ের জন্যই প্রেমিক তাকে আর পছন্দ করছে না। আর সত্যিই শিশুটিকে পছন্দ করতো না তার নতুন সঙ্গী। তাই দুজন মিলেই মেয়েটিকে এভাবে পুড়িয়ে দিয়েছে।