SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১১-০৯-২০১৮ ১৫:০৮:০৪

নির্বাচনের আগে জঙ্গি তৎপরতা ও গুজব ছড়ানো নিয়ে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

elec-arms

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধ, জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য পুলিশের সব ইউনিট প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। ডিএমপি কমিশনার বলছেন, নির্বাচন এলে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ে, জঙ্গিরাও মাথাচাড়া দেয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে এসব রোধে তৎপর রয়েছেন তারা। এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কেন্দ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাড়াতে হবে পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা। সেই সঙ্গে বাড়াতে হবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। 

 


২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে দেশজুড়ে ঘটে একের পর এক সহিংস ঘটনা। পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে মারা যান ৭৭ জন মানুষ। দগ্ধ হন ৩৫০ জন। এছাড়া হরতাল অবরোধের সহিংসতায় আহত হন দেড় হাজার মানুষ। এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে পাঁচ বছর পর আরো একটি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাড়তি সতর্কতা পুলিশের।

নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়তে পারে, মাথাচাড়া দেয়ার চেষ্টা করতে পারে জঙ্গি সংগঠনগুলো, প্রগতিশীল এবং সামাজিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করতে পারে তারা, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ছড়ানো হতে পারে উস্কানি- এমন আশঙ্কা পুলিশের। আর তাই এসব রোধে পুলিশের সব ইউনিট প্রধানকে সবোর্চ্চ সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সদর দফতর থেকে।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘একটি সময় আমরা দেখেছি, জঙ্গিদেরকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাড়তে দেয়া হয়েছে। আমরা বলবো না যে জঙ্গি নাই, এখনও বিচ্ছিন্নভাবে এধরণের কর্মকাণ্ড চালচ্ছে অনেকেই। সেব্যাপারে আমাদের নজরদারি আছে। আমরা কাজ করছি।’  

তিনি আরো বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন সহায়ক পরিবেশ ধরে রাখার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

কমিশনার আরও বলেন, ‘ঢাকঢোল পিটিয়ে এধরণের অভিযান করলে ফল আসে না। আমরা মনে করি যে আমাদের এই যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার এবং নতুন করে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দেয়া- এ ব্যাপারে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গেও আমরা কাজ করছি।’  

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে কোনো কোনো গোষ্ঠি ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করতেই পারে। তবে এসব রোধে আগেই তা নস্যাৎ করার দিকে নজর দেয়া উচিৎ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর অব. জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, ‘যারা যেভাবে গুজব ছড়ায়, এতে কিন্তু তাদের একটা প্রস্তুতি লাগে। সেকারণেই আমি বলেছিলাম যে গোযেন্দা নেটওয়ার্কটা শক্তিশালী করা দরকার। তাহলে আগাম সংবাদ তারা পেয়ে যাবে। এটি পেলে গুজব ছড়ানোর আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এটা বন্ধ করতে পারবে।’ 

তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি দায়িত্ব নিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে।