SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১১-০৯-২০১৮ ১৪:৪৮:৫৭

কারাগারে আদালত স্থানান্তর নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আ. লীগ, বিএনপি

adalot-up

বেগম খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য কারাগারে আদালত বসানোর বিষয়ের বৈধতা নিয়ে আজো পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। বেগম জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, এভাবে আদালত বসানো সংবিধান পরিপন্থী। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট বারের ভাইস চেয়ারম্যান বলছেন, 'বার' কে ব্যবহার করে ফৌজদারি মামলার আসামির পক্ষে কথা বলা অনাকাঙ্ক্ষিত। এদিকে, বেগম জিয়ার চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার ক্ষেত্রেও পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দু' পক্ষ।

 

মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং বেগম জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন কারাগারে আদালত স্থাপন করে বিচারকাজ পরিচালনা সংবিধান পরিপন্থি। আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছেন বলে জানান তারা।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এই গেজেট নোটিফিকেশনটি সংবিধানের আর্টিকেল ১১৬ অনুযায়ী করা হয়নি। আমরা প্রধান বিচারপতির নিকট আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি আবেদন করেছি। আমাদের আবেদনটি আইন মোতাবেক নিষ্পত্তি করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’    

এর কিছুক্ষণ পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটরিয়ামে পাল্টা এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের আওয়ামী লীগ পন্থী আইনজীবীরা জানান প্রক্রিয়া মেনেই পুরান ঢাকার কারাগারে আদালত বসানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বারকে ব্যবহার করে ফৌজদারি মামলার আসামির পক্ষের সংবাদ সম্মেলন অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও মন্তব্য করেন তারা।

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেন, ‘ফৌজদারী কার্যবিধির ৯২ ধারায় বলা আছে, সরকার সরকারি গেজেটের সাধারণ অথবা বিশেষ আদেশ জারি করিয়া নির্দেশ দিতে পারেন যে, যে কোনো স্থানে বা স্থানসমূহে দায়রা আদালত বসিবে। কিন্তু এরূপ আদেশ না দেয়া পর্যন্ত দায়রা আদালত পূর্বের মতো বসিবে। কাজেই এটা কোনো অবস্থাতেই বলা যাবে না যে এটা আইনের মধ্যে নাই।’    

বেগম জিয়ার আইনজীবীরা জানান, দলীয় প্রধানের চিকিৎসার জন্য সরকারি সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। তবে এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ পন্থী আইনজীবীরা বলছেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ক্ষেত্রে বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসার সুযোগ নেই। 

বেগম জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘ইউনাইটেড হসপিটাল হতেপারে, অ্যাপোলো হসপিটাল হতে পারে; যেকোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে উনার যে পার্টিকুলার ডিজিজ আছে, বা অসুবিধাটা আছে- সেটার ট্রিটমেন্ট যেখানে হবে, সেখানে আমরা চিকিৎসা করাতে চাই।  

আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘তার শারীরিক অবস্থায় বোর্ড যেভাবে মতামত দেবেন, আইনের সরেবাচ্চ বিষয়টাকে মাথায় রেখে তার সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ইচ্ছার উপরে তাকে বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করানো যাবে- এটা জেলকোডের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কোথাও নাই।’ 

এদিকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে রুট শুনানি না করতে আজও হাইকোর্টে সময় আবেদন করেছেন বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। শুনানি পরবর্তী সপ্তাহে শেষ হতে পারে।