SomoyNews.TV

ভোটের হাওয়া

আপডেট- ১১-০৯-২০১৮ ১০:১২:৫৬

মৌলভীবাজার-২ জয়ের সুযোগ দেখছে তিন দলই

moulo-two-final

ভোটের রাজনীতিতে অন্যতম বৈচিত্র্যের সংসদীয় আসন মৌলভীবাজার-দুই। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির তিনবারের বিপরীতে অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপির অর্জন শুধু ১৯৯৬ সালে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়। যেখানে ২০১৪ সালসহ দু'বার জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্রপ্রার্থী। এ অবস্থায়, আসনটি নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া প্রধান তিনটি দল। এক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে পুঁজি হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। জয়ের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি চাচ্ছে নিজেদের প্রার্থী। আর বিএনপি তাকিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে।

 


হাকালুকি হাওর ও চা-বাগান সমৃদ্ধ উপজেলা কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ একাংশ নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-২ আসন। জেলার অন্য আসনের চেয়ে এখানকার ভোটের পরিসংখ্যান অনেকটা আলাদা। এখানে এককভাবে আধিপত্য ধরে রাখতে পারেনি কেউই।

এ অবস্থায়, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পোস্টার-ব্যানারে কৌশলী প্রচারণায় ব্যস্ত তারা। কেউ কেউ শুরু করেছেন গণসংযোগও।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে মাঠে থাকা ডজনখানেক নেতাই যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তৃণমূলে। তবে দলটির স্থানীয় নেতারা বলছেন, ভোটের আগেই এককপ্রার্থী চূড়ান্ত হবে। জয় নিয়েও আশাবাদী তারা।

কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন, ‘যার বাড়ি কুলাউড়া, যাকে জনগণ গ্রহণযোগ্য মনে করবে, তাকে যদি নমিনেশন দেয়া হয়, আমরাও তার জন্য কাজ করবো।’ 

আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটে থাকা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ভোটের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি। আগামী নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী দিতে চান, তিনবার জয় পাওয়া দলটির নেতারা।

কুলাউড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এম লুৎফুল হক বলেন, ‘বিগত তিনবারই আমাদের এখানে জাতীয় পার্টি এমপিশিপ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও আশা করি মৌলভীবাজার-২ আসন আমরা জয় করতে পারবো।’

এ সংসদীয় আসনে খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি। এবার হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়ে চমক দেখাতে চায় দলটি।

কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাল আহমেদ জুনেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দলের ২০ দলীয় ঐক্যজোট থেকে যদি কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়, আমরা তাকেও সমর্থন করবো। এ ব্যাপারে আমরা শপথ নিয়েছি। আমরা কোনো অবস্থাতেই কোনো হুমকি ধামকিতে কার্যক্রম বন্ধ করবো না।’  

রাজনৈতিক কার্যালয় ছাপিয়ে ভোটের আলোচনা চলছে পাড়া-মহল্লার আড্ডায়ও। জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে হিসেব-নিকেশে ব্যস্ত ভোটাররা।

দুই উপজেলার একটি পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের ভোটার দুই লাখ ৮১ হাজার।