SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ২৫-০৮-২০১৮ ১৫:০২:১৬

‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচার করতে বিশ্বনেতারা ব্যর্থ’

rohi-inte

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আগে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ নিরাপত্তা এবং রাখাইনে নিরাপদে চলাচলের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ। এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে বিচারের মুখোমুখি করতে বিশ্ব নেতারা ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

 

অন্যদিকে, জাতিগত নিধনের অভিযোগে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন আসিয়ানের ১৩০ জন আইনপ্রণেতা।

গত বছর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা শুরুর পর বাংলাদেশে আসতে থাকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হলেও প্রত্যাবাসন শুরুর আগে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছে জাতিসংঘ। রাখাইনে ফেরার মতো উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করেন মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক নুত অস্তবি বলেন, ‘মিয়ানমারে ফেরার আগে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিকত্ব দেয়ার পাশাপাশি তারা যেন স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে সে ব্যবস্থাও করতে হবে। সবচে বড় কথা হলো তাদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ফিরিয়ে দেয়া।’

শুক্রবার(২৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, গত বছর সুপরিকল্পিতভাবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালানো হয়। তাদের বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগসহ খুন, ধর্ষণ ও অমানবিক নির্যাতন তথা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো জাতিগত নিধনের তথ্য প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। তবে বিশ্ব নেতাদের ব্যর্থতায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে একে লজ্জাজনক হিসেবে আখ্যা দেয় সংস্থাটি।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনের জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার পাঁচ দেশের ১৩০ জনেরও বেশি আইন প্রণেতা। শুক্রবার আসিয়ান পার্লামেন্টেরিয়ান্স ফর হিউম্যান রাইটসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সংবিধিতে স্বাক্ষর না করায় সরাসরি তাদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।