SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ০১-০৮-২০১৮ ১৬:৪৮:২৯

বিমান বিধ্বস্ত হলেও অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে গেল ১০১ যাত্রীর সবাই!

mex-crash

মেক্সিকোর দুরাঙ্গো প্রদেশে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হলেও, অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে গেছেন বিমানের ১০১ আরোহীর সবাই। তবে, আহত হয়েছেন অন্তত ৮৫ জন। এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি খারাপ আবহাওয়ার কবলে পড়লে, জরুরি অবতরণ করার সময় বিমানবন্দরের রানওয়েতে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এদিকে, এ ঘটনার পর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে গুয়াদালুপে ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। 

 

 
মঙ্গলবার, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে ৯৭ জন যাত্রী ও ৪ ক্রু নিয়ে মেক্সিকোর দুরাঙ্গো প্রদেশের গুয়াদালুপে ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে অ্যারোমেক্সিকো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এ.এম. টু ফোর থ্রি ওয়ান। ওড়ার কিছুক্ষণ পরপরই প্রচন্ড শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাতের কবলে পড়ে বিমানটি। উপায়ন্তর না দেখে পাইলট জরুরি অবতরণের চেষ্টা করলে, বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। এর পরপরই বিমানে আগুন ধরে গেলেও উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতায় তা দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যায় বিমানের যাত্রীরা। 

এক যাত্রী বলেন, ‘হঠাৎ মনে হলো বিকট শব্দে কোনকিছুর বিস্ফোরণ ঘটেছে। আমরা তখনও বুঝতে পারছিলাম না এটা বজ্রপাত নাকি অন্যকিছু। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি রানওয়েতে আছড়ে পড়ে।’ 

বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানের বেশ কিছু যাত্রী পায়ে হেঁটে ভেতর থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হলেও, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অন্তত ৩৭ যাত্রীকে। এদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও, আপাতত আশঙ্কামুক্ত বিমানের পাইলট। 

এক চিকিৎসক জানান, ‘ক্যাপ্টেনকে নীবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আমরা শুধু জানি, তিনি আশঙ্কামুক্ত, তবে তার অবস্থা কতটা গুরুতর সেবিষয়ে আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। শুধু পাইলট নয়, বিমানের প্রতিটি আহত যাত্রীর সহায়তায় আমাদের কর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।’ 

বিমান দুর্ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে দুরাঙ্গ প্রদেশের গভর্নর জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ার কারণেই বিমানটি তার গতি হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। 

গভর্নর বলেন, ‘আমরা দুর্ঘটনার কারণ এবং প্রকৃতি নিরূপণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেভাবে বিমানটিকে রানওয়ের মধ্যেই জরুরি অবতরণ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তাতে এটা নিশ্চিত পাইলটের দক্ষতার কারণেই এতগুলো মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাচানো সম্ভব হয়েছে।’ 

এ ঘটনার পরপরই বন্ধ ঘোষণা করা হয় গুয়াদালুপে ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। উদ্ধার কার্যক্রমে গতি আনতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিকে পেনা নিয়েতো।