SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ০৫-০৭-২০১৮ ০৯:০৬:০৭

অনিয়মে নিমজ্জিত ‘পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রম’

slum-child

পথ শিশুদের কল্যাণে সরকারের নেয়া বেশ কয়েকটি প্রকল্পের একটি ‘পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রম’। সদ্য সমাপ্ত অর্থ বছরে এ কার্যক্রমে দুই শতাধিক পথশিশুর পুনর্বাসনে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে শেল্টারহোমে মাত্র ৮০ জন শিশু দেখা গেছে।

সরকারের শিশু পুনর্বাসন বিষয়ক কার্যক্রমের সহযোগী বেসরকারি সংস্থা 'অপরাজেয় বাংলা' জানিয়েছে, এ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বা অর্থ ব্যয়ের সঠিক কোনো তথ্য নেই তাদের কাছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলছেন, প্রকল্পে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে তা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রতি প্লেটে এক পিস ছোট শিং মাছ আর পাতলা ডাল। কমলাপুর পথশিশু পুর্নবাসন কেন্দ্রে ৫০ জন শিশুর দুপুরে খাবারের চিত্র এটি। ফুটপাত থেকে এসব শিশুকে পুনর্বাসন করতে এই শেল্টারহোমে নিয়ে আসা হয়েছে। যেখানে শিশুর মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শিশুর বেড়ে ওঠার সব সুযোগ- সুবিধা পাওয়ার কথা।

২০১৭-১৮ অর্থ বছরে মহিলা ও শিশু অধিদপ্তর রাজধানীর কমলাপুর ও কারওয়ান বাজারে এই দু'টি শেল্টারহোমে পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করে। কর্তৃপক্ষ দুটি শেল্টারহোমে ২শ’ পথশিশুর পুনর্বাসনের দাবি করলেও সরেজমিনে দেখা যায়, দুই কক্ষ বিশিষ্ট শেল্টারহোম দু'টিতে রয়েছে মোট ৮০ জন শিশু। প্রতিটি শিশুর মাথা পিছু খাবার ব্যয় দেখানো হচ্ছে প্রতিদিন ১৩০ টাকা করে।

সেই হিসাবে ৮০ জন শিশুর জন্য মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা। তবে এ কার্যক্রমের এনজিও সহযোগী অপরাজেয় বাংলা বলছে, খাওয়া বাবদ দুটি শেল্টাহোমে মাসিক খরচ ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। আর প্রকল্প পরিচালক ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা খরচের কথা বলছেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো ধরনের ভাউচার বা হিসাব দেখাতে পারেননি তিনি।

মহিলা ও শিশু অধিদপ্তর প্রকল্প পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘কমলাপুর এভারেজে ৫ লাখ টাকা, কারওয়ানবাজার এভারেজে ২.৫-৩ লাখ টাকা। এটা তো কোনো ফাইল রাখা হয় না। এটা বিল আসতেছে খরচের সেটা রাখা হয়। মোট খরচ হিসাব করলে পাওয়া যাবে।’

অপরাজেয় বাংলাদেশ নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু বলেন, ‘বাজেটটা আমি বলবো যে, খাওয়া খরচ খুব বেশি ২ লাখ টাকা লাগে।  বাড়ি ভাড়া এক লাখ টাকার মতো।’

প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি সময় নিউজকে বলেন, ‘এই প্রজেক্টটা একেবারেই যেহেতু নতুন, আমরা এখনও কাগজ ফাইল আনা হয়নি। কাগজ আনলে এসব হিসাব আমরাও দেখবো। হিসাবে কোনো রকম সমস্যা আছে কিনা।’

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এ মন্ত্রণালয় থেকে আরো ১৯ টি শেল্টারহোম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে ।

শুধু কমলাপুর আর কারওয়ান বাজারে এ দুটি শেল্টারহোম দুটিই নয়, পথ শিশু পুর্নবাসনে রয়েছে সরকারের নানা কার্যক্রম । কিন্তু এতকিছুর পরও বছরের পর বছর পথশিশুরা রয়ে যাচ্ছে পথেই। এর কারণ খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো।