SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৩-০৬-২০১৮ ১০:৫৪:১৫

বড়ভাই কালচারে বাড়ছে কিশোর অপরাধ

juvenile-crime-1-jpg-ed

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পারিবারিক শৃঙ্খলাহীনতার পাশাপাশি বড়ভাই কালচারের কবলে পড়ে কিশোর অপরাধের হার বেড়ে গেছে। আগে শুধু মাদক সেবন কিংবা ছিনতাই করলেও এখন সরাসরি হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরেরা। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকারী কথিত বড় ভাইদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব কিশোররা অপরাধ করলেও নানা জটিলতার কারণে এসব বড় ভাইদের আইনের আওতায় আনতে পারছে না পুলিশ প্রশাসন।

ঈদের পরের রাতে নগরীর হালিশহর এলাকায় মাত্র কয়েক হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল সেট কেড়ে নেয়ার জন্য সুমন নামে এক কিশোরকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ হত্যাকান্ডের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়, অন্তত ১০ জন কিশোর মিলে ছুরিকাঘাতে সুমনকে হত্যা করেছে।

গত তিন মাসে এ ধরণের ৮ থেকে ১০টি হত্যাকান্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কিশোরদের বিরুদ্ধে। তার পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য ছিনতাই এবং মাদক সেবনের অভিযোগ।

সিএমপি কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহম্মদ মহসিন বলেন, ‘সিগারেট আড্ডা থেকে শুরু করছে। ওরা মাদকসেবী হয়ে গেছে এবং মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্যই ছিনতাই, চাঁদাবাজি, এবং ছোটখাটো বিষয়ে বন্ধু বন্ধুকে খুন করে ফেলছে।’

অভিযোগ উঠেছে, এলাকার কথিত বড় ভাইদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে এসব কিশোররা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে। গত জানুয়ারি মাসে নগরীর জামাল খান এলাকায় সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে মারা যায় আদনান নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্র।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৫ কিশোরই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে স্থানীয় এক বড় ভাই তাদের অস্ত্র দিয়েছিল। মূলত পারিবারিক শৃঙ্খলাহীনতার কারণেই কিশোররা অপরাধের সঙ্গে জড়াচ্ছে বলে মনে করেন সমাজ বিজ্ঞানীরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়  প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এই বড় বাইয়েরা তাদের অপকর্ম করার জন্য সাহস জোগাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে মাফিয়া চক্রগুলো কোনো না কোনো ভাবে শেল্টার পাচ্ছে।’

চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, ‘ছেলে মেয়েরা কোথায় যাচ্ছে বাবা-মায়েরা সেদিকে লক্ষ্য করতে পারছে না। একটু থেকে একটু হলে তারা ছুরি মারা বা অন্যান্য ঘাতক কাজে লিপ্ত হচ্ছে।’

গ্রেফতারকৃত কিশোররা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে কয়েকজন কথিত বড় ভাইয়ের নাম প্রকাশ করলেও নানা জটিলতার কারণে তাদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না।

সিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আমেনা বেগম বলেন, ‘আমরা যখন তাদের থানায় এনেছি, তখন আর বড় ভাই নেই। মনিটরিং এর ফলে বড় ভাইয়েদরের প্রভাব কমে যাবে।’

ফৌজদারী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কিশোরদের গ্রেফতার করা হলেও পরবর্তীতে তাদের সবাইকে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।