SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ০৮-০৬-২০১৮ ০৯:৫৩:২৫

গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে পদক্ষেপ নেই

bus-chadabaji

রাজধানীতে প্রকাশ্যেই গণপরিবহনে চলছে চাঁদাবাজি। আর বিভিন্ন কল্যাণ তহবিলের নামে এসব চাঁদাবাজির কাছে একপ্রকার জিম্মি পরিবহন খাত। আর এসব কিছুর খেসারত দিতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণপরিবহনে চাঁদাবাজির এ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে না পারলে থামবে না রাজপথের অরাজকতা।

 

প্রতিদিন সড়কে গাড়ি চালাতে বিভিন্ন স্ট্যান্ডে হাজারেরও বেশি টাকা গুণতে হয় প্রতিটি বাস চালককে।

দিনে দুপুরে এ দৃশ্য রাজধানীর যাত্রবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে। তুরাগ পরিবহনের প্রতিটি বাস থেকে ৬৫০ টাকা করে কেটে নিচ্ছেন সিন্ডিকেট।

সময় সংবাদ এ দৃশ্য ধারণের পর এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে সিটি কর্পোরেশনের লোক বলে পরিচয় দিলেও তার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনিন তারা। প্রতিটি বাস থেকে এমন চাঁদা তোলার ক্ষেত্রে রয়েছে তাদের নানা অজুহাত।

এক চাঁদাবাজ বলেন, ‘হ্যাঁ কার্ড আছে আমার, কিন্তু আমার সঙ্গে নেই এই মুহূর্তে।’

আরেক চাঁদাবাজ বলেন, ‘যানজট থাকে, আমরা সেগুলো ক্লিয়ার করি। আমরা পরিশ্রম করে ১০ টা টাকা তাদের কাছ থেকে চেয়ে নিই।’

বাসের একভুক্তভোগী হেলপার বলেন, ‘মালিক সমিতি নেয়, তারপরে আরও লোকজন আছে। থানাওয়ালারও খায়।’  

এদিকে, ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত থকা সত্ত্বেও কেন এভাবে প্রতিটি বাস থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে হঠাৎই ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।

ট্রাফিক পুলিশ বলেন, ‘এসব কথার কোনো উত্তর নাই।’

আর পরিশেষে এসব কিছুর ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে যাত্রীদেরকেই ।

এক যাত্রী বলেন, ‘ড্রাইভার, বাস চালায় যারা- এদের কাছে আমরা জিম্মি।’

আরেক যাত্রী বলেন, ‘ভুক্তভোগী আমরা সবাই। ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা দিয়ে যখন বলি ৫ টাকা ফেরত দেন, তখন তারা বলেন, এখানে ৭-৮ টাকাই দিতে হবে।’

তবে, এ বিষয়ে মালিক সমিতি বলছে, সংগঠন পরিচালনার ব্যয় বহন করার জন্যই তারা চালকদের কাছ থেকে এ চাঁদা তুলে থাকেন । আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া থামানো সম্ভব নয় এ অরাজকতা ।

শ্যামলী পরিবহনের মালিক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘দেড়শ টাকার ওপরে তো চাঁদা হওয়ার কথা নয়। ৬৫০ টাকার কথা যেটা বলছে, এটা আমার মনে হয় ভুল তথ্য। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করবো। কিন্তু একজন চাঁদা তুলে খাবে, আর কেউ কিছু বলবে না- এটা হয় নাকি?’   

পরিবহন বিশেষজ্ঞ কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘রাস্তায় চাঁদাবাজি করা যাবে না। এ বিষয়ে যদি নজরদারি এবং কঠোরতা রাখে, তাহলেই এটা ঠেকানো সম্ভব। সরকারের সদিচ্ছাটা এখানে খুব জরুরি।’ 

ঢাকা শহরের বিভিন্ন রুটে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি গণপরিবহন চলাচল করে। আর কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। তবে, দিনের পর দিন এভাবে চলে আসলেও এর কোনো সুরাহা মিলছে না। 

প্রতিবেদক: পিংকি আক্তার