SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাণিজ্য সময়

আপডেট- ০৫-০৬-২০১৮ ০৫:৩১:৪৩

জৌলুস হারাচ্ছে চট্টগ্রামের পাদুকা পল্লী

ctg-shoe

চীন ও ভারত থেকে আসা জুতার দাপটে এখন অস্তিত্ব সংকটে চট্টগ্রামের পূর্ব মাদারবাড়ির ঐতিহ্যবাহী পাদুকা শিল্প। ঈদের ভরা মৌসুমেও মুখে হাসি নেই এই শিল্পের কারিগরদের। এক সময় ঈদ মৌসুমে ৮শো কোটি টাকার ব্যবসা হলেও তা এখন নেমে এসেছে অর্ধেকে। এ অবস্থায় দেশীয় শিল্পকে বাঁচাতে প্রণোদনার পাশাপাশি  নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন এই খাতের উদ্যোক্তারা।

চট্টগ্রামের মাদারবাড়ির পাদুকা পল্লীতে ঈদের অন্তত এক মাস আগে থেকেই রাতদিন ২৪ ঘন্টা জুতা তৈরিতে ব্যস্ত থাকতো লাখো শ্রমিক। এখন সেই জৌলুস না থাকায় তা এখন নেমে এসেছে ৩০ থেকে ৪০ হাজারে। চীন ও ভারতীয় জুতা এই বাজার দখল করায় হারিয়ে যেতে বসেছে দেশীয় গৌরবময় এই পাদুকা শিল্প।

এক শ্রমিক বলেন, 'বাইরের জুতাগুলো আসার কারণে আমাদের চাহিদা কমে যাচ্ছে। শ্রমিকদের কাজও কমে যাচ্ছে।'

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে হতাশ সম্ভাবনাময় এই শিল্পের ব্যবসায়ীরা। তাই প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।

এক ব্যবসায়ী বলেন, 'সরকারের পক্ষ থেকে একটু সুবিধা পেলে বাংলাদেশের এই শিল্পটা অনেক এগিয়ে যেতো।'

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন জুতা কিনতে। কিন্তু চাহিদা কমতে থাকায় জুতার গুণগত মান ও ধরে রাখতে পারছেন না তারা।

গত কয়েক বছর আগেও দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও রপ্তানি হতো চট্টগ্রামের মাদারবাড়ির জুতা। এই খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকারের সহায়তা পেলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

চট্টগ্রাম পাদুকা শিল্প মালিক গ্রুপের সাবেক সভাপতি মো. সোলায়মান বলেন, গার্মেন্টসের পরের সেক্টর এটা রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তো কোন কাজ করে না। বাস্তবে যদি কাজ করে তাহলে আমার মনে হয়, এটা গার্মেন্টসকে ছাড়িয়ে যাবে।'

প্রায় ৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা পাদুকা পল্লীতে এক সময় কারখানার সংখ্যা ছিলো এক হাজারের মতো। কমতে কমতে তা এখন ঠেকেছে ৪ শো'তে।